
পশ্চিমবঙ্গে গৃহবিবাদে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। ২০৭টি আসন নিয়ে বিজেপি দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় মেনে নিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব। কিন্তু দলনেত্রী যখন ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন, তখন দলের নেতারাই পতনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দলেরই বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করে চলেছেন। ফলে মমতা বন্দোপাধ্যায়ও একরকম দিশেহারা।
মমতাকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’, অভিষেককে ‘দুর্যোধন’ বলে খোঁচা দিলেন মমতার একান্ত ঘনিষ্ঠ ফিরহাদ হাকিমের কন্যা এবং ভবানীপুরে মমতার কাউন্টিং এজেন্ট প্রিয়দর্শিনী হাকিম। তার কথায়, ‘চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।’
চর্চিত ফেসবুক পোস্টে প্রিয়দর্শিনী লেখেন, ‘দুটি মহাকাব্য, একটি শিক্ষা। যখন আনুগত্য বিচারবুদ্ধিকে অন্ধ করে দেয়, তখন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। একই কথা বলেছেন হুগলির সাবেক সাংসদ চিকিৎসক রত্না দে নাগ।
ইতিমধ্যে আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সাবেক বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা। আর এবার দলের অন্দরের দুর্নীতির ছবিটা তুলে ধরলেন বহরমপুরের তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি দলের একেবারে নীচের তলায় দুর্নীতির শিকড় পৌঁছে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন। তিনি সাফ বলেন, পঞ্চায়েত স্তরের দুর্নীতি হয়েছে। রাজ্যে যদি ৮০ হাজার বুথ থাকে, তাহলে ৮০ হাজার বুথ সভাপতিই দুর্নীতিতে জড়িত। কীভাবে কোনও কাজ বা পরিষেবা পেতে গেলে টাকা দিতে হত, সেই অভিযোগের কথা ঝরঝর করে বলেছেন তিনি।
তার কথায়,’পাড়ায় একটা ঢালাই করতে গেলেও টাকা দিতে হত। একজন নিত না, ধাপে ধাপে সবাই টাকা নিত। দলের গ্রাসরুট স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে গিয়েছিল। বিজেপির কাছে শোচনীয় হারের পর থেকেই তৃণমূলের একেক জন নেতার সুরে তাল কেটেছে। এই আবহে দলের পাঁচ মুখপাত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে দলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন জবাব দাবি করে নোটিশ পাঠিয়েছেন।
কোহিনুর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে জেতার পরে বিজেপি নয় বরং তৃণমূলের ওপর হামলা চালাচ্ছে ‘নব্য বিজেপি’। তার দাবি, তৃণমূলের কর্মীরাই গেরুয়া আবির লাগিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
এদিকে বিজেপি কর্মীদের ‘সৌজন্যবোধ’ নিয়ে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন বিভিন্ন চ্যানেলে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ ঋজু দত্ত। তিনি দাবি করেন, তার বাড়ির সামনে এসে ‘তৎকাল বিজেপি’ হুমকি দিয়ে যায়। তবে বিজেপি নেতারা নাকি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশাল জয়ের পরেও বিজেপি কর্মীরা সংযত ছিলেন এবং তাকে হেনস্থা করেননি।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আগে থেকেই গেয়ে রেখেছেন, অনেকেই হয় তো বিজেপিতে যোগ দেবার জন্য তৈরি হচ্ছে। বুধবারে জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকেও দলীয় নেতাদের অন্তর্ঘাতের বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। একটি কমিটি করে ব্যবস্থা নেয়ার পথে তিনি হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও যে দলের নেতাদের ক্ষোভ রয়েছে সেটা আঁচ করে মমতা অভিষেককে আগলে রেখেছেন। জয়ী বিধায়কদের সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেককে সম্মান জানাতে বাধ্য করেছেন।
জানা হয়েছে, ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়ী বিধায়ক থেকে বিভিন্ন জেলায় বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দেয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:১২:০৮ ২৪ বার পঠিত