
চট্টগ্রামে ১৮ বছর আগে শিক্ষার্থী ফসিউর রহমান শাওনকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ‘গামছা পার্টি’র পাঁচ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের ষষ্ঠ অতিরিক্ত বিচারক মুহাম্মদ আলী আককাস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বেল্লাল হোসেন, জাকির হোসেন, শহীদ রাজা, আল আমিন গাজী ও মো. সোহেল।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রাকিব উদ্দীন জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আল আমিন গাজী ও মো. সোহেল পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকায় তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই নগরের কোতোয়ালী থানার বাদশা মিয়া সড়ক এলাকা থেকে ফসিউর রহমান শাওনের (২৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাসা থেকে জিইসি মোড়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে তিনি ‘গামছা পার্টি’র শিকার হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে নগরীর ‘গামছা পার্টি’ নামে একটি চক্র সক্রিয় ছিল। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বা সহকারী সেজে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল লুট করত এবং পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে যেত। পরবর্তীতে চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের পর এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০:১০:৫৫ ৯ বার পঠিত