তামাক অধ্যাদেশের টানাপোড়া: রাতারাতি অনুমোদিত ধারার পুনর্বিবেচনা

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » তামাক অধ্যাদেশের টানাপোড়া: রাতারাতি অনুমোদিত ধারার পুনর্বিবেচনা
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬



তামাক অধ্যাদেশের টানাপোড়া: রাতারাতি অনুমোদিত ধারার পুনর্বিবেচনা

বাংলাদেশে আইন বানানো কখনো কখনো এক ধরনের জাদুবিদ্যার মতো।রাতে সিদ্ধান্ত হয়, সকালে দেশের মানুষ জেগে দেখে আইন তৈরি হয়ে গেছে! তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ঘটনা সেটাই আরেকবার মনে করিয়ে দিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অধ্যাদেশটি হঠাৎ অনুমোদিত হলো - যেন “আগে পাশ করি, পরে দেখি” - এখন সেটি পুনর্বিবেচনার মুখে। সংসদীয় বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ খুঁটিয়ে দেখতে যেয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশেরও সুসুবিবেচনা করেছে। ই সিগারেট নিষেধাজ্ঞা ও খুচরা দোকানে পণ্য প্রদর্শন নিশেধাজ্ঞায় এসে তারা বুঝল - একটু ধীরে, একটু ভেবে করা যাক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও এখন সচেষ্ট - ধারাগুলো বাদ দিয়ে নতুন খসড়া তৈরিতে ব্যাস্ত যা পাঠানো হবে আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে। মজার বিষয় হলো - এ অধ্যাদেশ অনুমোদনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, স্টেকহোল্ডারদের সাথে পরামর্শ করা লাগবে।কিন্তু সেই পরামর্শের দিন কখনোই এল না।

ব্যবসায়ী সংগঠন, কৃষক, পরিবেশক থেকে শুরু করে নীতিবিশেষজ্ঞদের কেউই তাই অবাক হননি যখন অধ্যাদেশটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদীয় কমিটি সিদ্ধান্ত দিল। বরং অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন যে হুজুগে করা কোন নীতি দিয়ে বাংলাদেশ চলবে না।

বাংলাদেশে সিগারেট ব্যবসা শুধু ব্যবসা নয় - এটা ভূগোল, সমাজতত্ত্ব ও বাজারশাস্ত্রের মিশ্রণ। গবেষণা বলছে, দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ১৩% অবৈধ পণ্যের দখলে।অর্থাৎ আপনি যতই নিয়ম করুন - যদি সেই নিয়ম হাজারো খুচরা দোকানে একইভাবে কার্যকর না হয়, মানুষ সরে যাবে সস্তা অবৈধর দিকেই।

এ অবস্থায় খুচরা দোকানে বৈধ পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা মানে হলো দুধ-ভাত দিয়ে কালসাপ পোষা যা ফিরে আমাকেই দংশাবে। অসাধু ব্যবসা খমতায়নে কেন আমরা এত সোচ্চার তা উদ্বেগের। যারা বৈধ পণ্য আড়ালে ঢুকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন, তারা হয়তো জানেন না দেশের বহু জায়গায় অবৈধ সিগারেট অনেক আগে থেকেই আড়ালে - আক্ষরিক অর্থেই - অবৈধভাবে বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে তামাক নিয়ন্ত্রণে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে - দণ্ড বৃদ্ধি, ব্যবহারের ক্ষেত্র সংকুচিত করা, বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা।তাই এই অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনাকে নেতিবাচক ভাবলে ভুল হবে। বরং এটা একধরনের নীতি সংস্কার - স্বাস্থ্য সুরক্ষা থাকবে, কিন্তু আইনও হবে বাস্তবসম্মত, আলোচনাভিত্তিক এবং কার্যকরযোগ্য।

তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি জরুরি জনস্বাস্থ্য ইস্যু - এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু আইন যদি বাজার বাস্তবতা, খুচরা বাজারের জটিলতা, এবং অবৈধ বাণিজ্যের ঝুঁকি না চিনে তৈরি হয়, তাহলে নীতি উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

সরকারের নতুন উদ্যোগ তাই অন্য কিছুর চেয়ে বেশি স্মরণ করিয়ে দেয়,ভাল নীতি কেবল কঠোর নয় - হতে হয় বুদ্ধি ও বাস্তবসম্মত ।

বাংলাদেশ সময়: ০:০৯:৩৬   ১০৩ বার পঠিত  




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


জুলাইয়ের ৭৯৮ মামলায় ৫০৭৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ
র‍্যাব আগের মতো থাকছে না: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
সালমান এফ রহমানকে ৫ আগস্ট যেসব কথা বলেছিলেন শেখ রেহানা
আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি, সাকিবসহ ১৫ জনের নথি জব্দ
পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি, শিক্ষকের কারাদণ্ড
লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
সৌদিতে হবিগঞ্জের জেলা পরিষদের প্রশাসক আটক
বৈজ্ঞানিক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় হামের একটি টিকাও আমাদের হাতে ছিল না
ঈদে কত দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব আদালত
বিসিবি নির্বাচন নিয়ে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ