রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

জাবি শিক্ষার্থী হত্যা: স্বামী ফাহিম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি ২৪ মার্চ

প্রথম পাতা » জেলা জজ কোর্ট » জাবি শিক্ষার্থী হত্যা: স্বামী ফাহিম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি ২৪ মার্চ
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬



জাবি শিক্ষার্থী হত্যা: স্বামী ফাহিম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি ২৪ মার্চ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার নিহতের স্বামী ফাহিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৪ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা ছিদ্দিকার আদালত এ আদেশ দেন।

ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ উপপরিদর্শক মো. শহিদুজ্জামান আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম আসামির পক্ষে রিমান্ড চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায় রিমান্ড শুনানি হয়নি। শুনানির জন্য আগামী ২৪ মার্চ তারিখ দিন ধার্য করেন আদালত।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফাহিমকে ওই রাতেই ইসলাম নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৫ দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন।

​নিহতের শারমীন জাহান খাদিজা (২৫) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। গ্রেফতার ফাহিম আল হাসান (২২) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে এবং ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই শারমীনের স্বামী ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে নিহতের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন শারমীন ও ফাহিম বিয়ে করেন এবং পরে বিষয়টি পরিবারকে জানান। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন শারমীন।

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম ফোন করে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান, শারমীন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমীনের কপালের ডান পাশে এবং মাথার ওপর গভীর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, ফাহিম আল হাসান অজ্ঞাত সহযোগীদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শারমীনকে হত্যা করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:১৮   ১০ বার পঠিত