
ঈদযাত্রাকে ঘিরে সড়কে ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হবে না। মঙ্গলবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে আইজিপি একথা বলেন। আইজিপি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে সারা দেশের মহাসড়কে ট্রাফিক ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে ইতোমধ্যে সমন্বয় সভা হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্র ও সড়ক পরিবহণসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় বড় বাজার, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানজট বেশি হয়। এসব জায়গায় পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে যানজট নিরসনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চালক ও সহকারীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবহণ মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক চালক-সহকারী ট্রাফিক আইন জানেন না ও মানেন না। যত্রতত্র গাড়ি থামানো, সিগন্যাল অমান্য করা কিংবা জেব্রা ক্রসিং দখল করে রাখা-এসব কারণে যানজট বাড়ে। সামান্য সচেতনতা ও সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করলে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষ ইউনিটও কাজ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সোয়াত, ডগ স্কোয়াডসহ বিভিন্ন ইউনিট মোতায়েন রাখা হয়েছে। ঢাকার ভেতরে দূরপাল্লার বাসের অবৈধ কাউন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কাউন্টার যানজট বাড়াচ্ছে এবং শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে এসব কাউন্টার সরিয়ে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় আনা হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, যাত্রীদের সচেতন হতে হবে এবং অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, আইন জানা ও মানা নাগরিকের দায়িত্ব। এজন্য পুলিশ, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৫:৩৪ ৫ বার পঠিত