![]()
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এই কাজটা ৬ থেকে ৭ মাস ধরে করছি, বলতে পারেন আমি হতাশ। আমাদের সরকারি প্রসেসগুলো জনস্বার্থ বিরোধী। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রবিধানমালা ঝুঁলে রাখা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) ‘এনার্জি ফর চেঞ্জ’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, প্রবিধানমালা নিয়ে একটি কমিটি করেছি, সেখানে প্রাইভেট সেক্টরের লোক আছে, পাবলিক সেক্টরের লোক আছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রসেস পরিবর্তন করতে চান বিষয়গুলো সহজ না। যদিও আমি নিজেও এক সময় সচিব ছিলাম। অনেকগুলো কাজ হচ্ছে, তবে কাজ শেষ করতে পারিনি, এগুলো পাইপলাইনে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাওয়া কঠিন কাজ ছিল। বিইআরসির ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছিল, ফিরিয়ে দিয়েছি, দুর্নীতির সুযোগ যাতে সীমিত করা তার প্রচেষ্টা নেওয়া। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, আরইবি ও সমিতির ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরিসহ বিভিন্ন নীতিমালাকে সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন পাশের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠন করা হয়। বিইআরসি মূলত ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত ১৩টি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আরও ১২টি প্রবিধানমালা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে রেখেছে মন্ত্রণালয়।
আইনে সকল ধরণের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেওয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করা হয়। তারপর থেকে নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করায় কার্যত বেকার হয়ে পড়ে রেগুলেটরি কমিশন।
অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রথম সপ্তাহেই ঘোষণা দেয় নির্বাহী আদেশে আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে না। সে অনুযায়ী আইনে সংশোধনী এনে বিইআরসির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু জ্বালানি তেলের বিষয়টি বিগত সরকারের মতো হাতেই রেখে দিয়েছে। আগের মতোই পেট্রোলিয়ামের বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ায় ধুয়া তুলে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। চলতি মাসেও ডিজেল, পেট্রোল, অকটেনের দাম সমন্বয় করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফইআরবি চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীর, জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানসহ ৩ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৫:১৮ ৪১ বার পঠিত