ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিষয়ে বিধান কী?

প্রথম পাতা » রাজধানী » ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিষয়ে বিধান কী?
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



ক্যান্টনমেন্টে ব্যক্তিগত অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার বিষয়ে বিধান কী?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের একজন প্রার্থীর সঙ্গে ঢাকা সেনানিবাসের একটি প্রবেশপথে দায়িত্বরত মিলিটারি পুলিশ সদস্যদের কথোপকথন ভাইরাল হওয়ার পর সেনানিবাসে প্রবেশের বিধি-বিধান কিংবা নিয়ম-কানুন বিষয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে।

বিশেষ করে, বেসামরিক কেউ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নিজে লাইসেন্স করা অস্ত্র বহন কিংবা সরকার কিংবা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেওয়া সশস্ত্র দেহরক্ষী বা গানম্যান নিয়ে সেনানিবাসে প্রবেশ করতে পারেন কি-না সেই আলোচনাও সামনে এসেছে।

আবার অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে পুলিশ বা অন্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা সেনানিবাস এলাকায় নিজেদের অস্ত্র সঙ্গে রেখে সেখানে প্রবেশ করতে পারেন কি-না, কিংবা সেনানিবাসে প্রবেশের সময় তারা অস্ত্র বা গানম্যান ব্যবস্থাপনা কীভাবে করে থাকেন।

একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ওই প্রার্থীকে যাদের সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা যাচ্ছে সেই মিলিটারি পুলিশ কোন প্রক্রিয়ায় সেনানিবাসে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করেন তা নিয়েও অনেকের মধ্যে কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। খবর বিবিসির।

সেনা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনানিবাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে মিলিটারি পুলিশ (এমপি) এর দায়িত্বরত সদস্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এমনকি সেনাকর্মকর্তারাও কেউ যদি তাদের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন বা অমান্য করেন তাহলে তিনিও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন।

তাদের মতে, সেনানিবাসের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয় ক্যান্টনমেন্ট আইন, ২০১৮ এবং মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেট এর নির্দেশনার সমন্বয়ের ভিত্তিতে এবং সে অনুযায়ী সেনানিবাস একটি ‘সংরক্ষিত এলাকা’ এবং এর ভেতরে বেসামরিক কোনো ব্যক্তির অস্ত্র বা গানম্যান নেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে বেসামরিক মানুষ চলাচল করে, অনেক বেসামরিক লোকজন বসবাসও করে। কিন্তু সেখানে যে কোনো ধরনের আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার বিষয়ে সেনা আইনই চূড়ান্ত। ভূমি বা অন্য কোনো বিষয়ে চাইলে কেউ সুপ্রিম কোর্টে রিট করতে পারে। আবার সেনাবাহিনী যদি চায়, তারা কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে সামরিক আইনে বিচার করতে পারে; আবার চাইলে ফৌজদারি বিধিতেও সোপর্দ করতে পারে।

সেনানিবাসে প্রবেশ সংরক্ষিত; অস্ত্র বিষয়ে নিয়ম কী

সেনা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী দেশের সব সেনানিবাস সংরক্ষিত এলাকা এবং ওই আইন অনুযায়ী ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সবকিছু পরিচালিত হয় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে। আর শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো সেনা সদরের অধীনে মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরের নির্দেশনা।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার বলেন, ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্টে নিরাপত্তা গাইডলাইন দেওয়া আছে এবং ভূমিসহ সেখানকার সবকিছুর ব্যবস্থাপনা ওই অ্যাক্টের আওতায় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, স্টেশন কমান্ডার (ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড) এর গার্ডিয়ান। এছাড়া সরকার কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে অনেকটা মেয়রের ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া নিরাপত্তা বিষয়ে মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকে।

অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশ করা যায় কি-না এবং এ বিষয়ক নিয়ম কানুন কার জন্য প্রযোজ্য এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসামরিক যে কারও জন্য নিয়ম হলো অস্ত্র নিয়ে কেউ ঢুকবে না।

এ নিয়ম কঠোরভাবে প্রতিপালনের উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একুশে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেসব মন্ত্রী বা ভিআইপিরা সেনানিবাসে যান তাদের গানম্যানরা সেনানিবাসের গেইটে অবস্থান করেন এবং তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না।

পুলিশ ও আনসারসহ সরকারি অন্য যে কোনো সংস্থার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য যে অস্ত্র নিয়ে কেউ ভেতরে প্রবেশ করবে না।

আর সেনানিবাসের ভেতরে অভ্যন্তরীণ বিধি নিষেধ ও সামরিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো মিলিটারি পুলিশের। তারাই সেনানিবাসের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ করে। তারা সম্পূর্ণ সামরিক চেইন অব কমান্ডের অধীনে কাজ করে।

পুলিশ যদি কোনো সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা দাপ্তরিক প্রয়োজনে সেনানিবাসে প্রবেশ করতে চায়, তবে আগে থেকে সামরিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে অস্ত্র ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে কোনো বিশেষ অভিযানে অস্ত্র বহনের প্রয়োজন হলে সেটি সামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতে হয়ে থাকতে পারে।

আরেকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, আর্মি সদর দপ্তরের সার্কুলার বাস্তবায়নে কাজ করে মিলিটারি পুলিশ।

তিনি বলেন, সেনাপ্রধান নিজেও যদি নৌ বাহিনী সদর দপ্তরে যান তাহলে তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের গেইটে অপেক্ষা করতে হয় এবং সেনাপ্রধান নিজেও অস্ত্র ছাড়া ঢুকবেন সেখানে- এটাই নিয়ম।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রীরা বা এ পর্যায়ের কেউ ভেতরে গেলে তার সাথে থাকা পুলিশের গাড়ি ও গানম্যান গেইটে অপেক্ষা করবে। যার কাছে অস্ত্র থাকবে তিনি অবশ্যই গেইটে থাকবেন। লাইসেন্সধারী ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়েও কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

তবে কোনো ব্যক্তি যদি সাথে অস্ত্র নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করে অন্য দিকে যেতে চান, তাহলে তিনি আগেই লগ এরিয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য চিঠি দিতে পারেন। লগ এরিয়া মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেটের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কিন্তু সার্বিকভাবে গানম্যান গেইটে অপেক্ষা করবে। এর কোনো ব্যত্যয় নেই।

উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ধরুন রাত ১০টার পর কোনো সেনা কর্মকর্তা বের হচ্ছেন, মিলিটারি পুলিশ সেটি রিপোর্ট করতে পারে। কর্তৃপক্ষ যদি বলে কোনো সামরিক যান আজ বাইরে যাবে না, তাহলে সব অফিসার তা মানতে বাধ্য। মিলিটারি পুলিশ কোনো সামরিক যানকে সেদিন বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেবে না। মনে রাখতে হবে, মিলিটারি পুলিশ সেনা সদরের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৯:২৫   ৩৮ বার পঠিত  




রাজধানী’র আরও খবর


বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি ফখরুলের
পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা
নগদে বিনিয়োগ গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করলেন আরমান
অপরাধ করলেই গ্রেপ্তার, অনুমতি লাগবে না
বাসসের এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
শপথ অনুষ্ঠানে একবারও বলা হলো না ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি’
ঢাকা বারে এককভাবে লড়বে আইনজীবী অধিকার পরিষদ
গণভোটের ফল স্থগিতের রিট, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা শিশির মনিরের
ই-ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো
দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার ১৩টি আসনে ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ