
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদের তৃতীয় বেঞ্চ রুল খারিজ করে এ রায় দেন।
এরপর রায় স্থগিত চেয়ে বিকেলে রিটকারী পক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। তবে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক রায় স্থগিত করেননি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিটকারী পক্ষের কৌসুলি অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, রিটের উপর হাইকোর্টের দ্বিধাবিক্ত রায়ের পর বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তৃতীয় বেঞ্চে যায়। ওই বেঞ্চ রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয়। খারিজের পর রিটকারী সংগঠন যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম রায় স্থগিত চেয়ে তাৎক্ষণিক আবেদন করেন। আমরা শুনানিতে চেম্বার আদালতে বলেছি হাইকোর্টের রায়ের উপর যদি স্থিতাবস্থা না দেওয়া হয় তাহলে সরকার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে যাবে। কোর্ট বলেছে, পূর্ণাঙ্গ আপিল দাখিল করতে। তখন কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, যদি স্থিতাবস্থা না দেওয়া হয় তাহলে চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। তখন কোর্ট বলেছে, ‘কোন কিছু হবে না, আপনারা আপিল দাখিল করুন।’
আহসানুল করিম বলেন, যেহেতু বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন সেজন্য এত বড় বিষয়ে সরকার অগ্রসর হবে না বলেই আমরা মনে করি।
আরেক কৌসুলি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, এর আগেও চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তখন হাইকোর্ট ঠেকিয়ে দিয়েছিলো। সামনেই জাতীয় নির্বাচন। আমরা মনে করি নির্বাচিত সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কারণ এই বন্দরের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ জড়িত রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী কোম্পানির নিকট হস্তান্তরের বৈধতার প্রশ্নে দায়েরকৃত রিট আবেদনের উপর গত ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দেয় হাইকোর্ট। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তি করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার আইনি কর্তৃত্ব সরকারের নেই। এই উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতির লঙ্ঘন করে নেওয়া হয়েছে। ফলে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো।
এই রায়ে দ্বিমত পোষণ করে কনিষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার বলেন, রিট আবেদনটি অপরিপক্ক। কারণ চুক্তি নিয়ে সরকার এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এছাড়া রিট করার কোনো এখতিয়ার আবেদনকারীর নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রের সমস্ত নির্বাহী কার্য পরিচালনার এখতিয়ার রয়েছে। এ কারণে জারিকৃত রুলটি খারিজ করা হলো। বিভক্ত এ রায় দেওয়ার পর মামলার নথি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি জাফর আহমেদের কাছে পাঠান। এই বেঞ্চে শুনানির এক পর্যায়ে অনাস্থার আবেদন করেন রিটকারী পক্ষের কৌসুলিরা। ওই আবেদন খারিজের পর ওই বেঞ্চেই শুনানি করেন আইনজীবীরা।
‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামে গত ২৬ এপ্রিল একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। এতে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যেন নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল হস্তান্তর করা না হয় সেই বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ৩০ জুলাই কেন এই চুক্তি প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আইন, ২০১৫ এবং পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০১৭-এর লঙ্ঘন ও স্বেচ্ছাচারি ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে পিপিপি আইন, ২০১৫ ও পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০১৭-এর অধীনে সরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান নিশ্চিত করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৬:৪৬ ৩৯ বার পঠিত