![]()
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। তখন একজন পুলিশকে জানায়, ট্রেনের ছাদে এক যুবক অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, মৃতের নাম মো. নাঈম। চার সহযোগী মিলে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেছে। এরপর জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। একপর্যায়ে চারজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ, তাদের মধ্যে দুজন কিশোর।
ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, নাঈমের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। এখনও তার স্বজনের খোঁজ মেলেনি। তবে তিনি ভবঘুরে স্বভাবের ছিলেন। কমলাপুর, বিমানবন্দর বা জয়দেবপুর স্টেশন এলাকায় থাকতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি–ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনই তার সহযোগী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনের ছাদে তারা ধারাল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে ছাদের আলাদা স্থানে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ–বাটোয়ারা করতে বসেন। এ সময় মোবাইল ফোনটি নিজের কাছে রাখতে চান নাঈম। তবে তার সহযোগীরা এতে রাজি ছিলেন না। তারা ফোন বিক্রির অর্থ ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে নাঈমের সঙ্গে অন্যদের বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে চাকু বের করে সহযোগীদের আঘাত করতে উদ্যত হন। সেইসঙ্গে একজনকে ধাক্কা মেরে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চালান। তখন চারজন একসঙ্গে নাঈমকে আক্রমণ করে।
পুলিশ সুপার বলেন, নাঈম মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার সময়েও তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে সহযোগীদের মারধরে সহজেই কাবু হয়ে পড়েন। এর মধ্যে মাফলার দিয়ে তার গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ট্রেন কমলাপুর পৌঁছালে জড়িত চারজন ছাদ থেকে নেমে যান। পুলিশ খবর পাওয়ার পর প্রথমে নাঈমের নিথর দেহ উদ্ধার করে। এ সময় তাকে হত্যার আলামত পেয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে পুলিশ। ক্রমেই স্পষ্ট হয় যে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর কমলাপুর স্টেশন এলাকা থেকে তার দুই কিশোর সহযোগীকে আটক করা হয় (১৮ বছরের নিচে বয়স হওয়ায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হলো না)। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে রকি ও রানা নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত মাফলার ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নাঈমকে একবার ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে তিনি আবারও অপরাধে জড়ান। তিনি কানা নাঈম নামেও সহযোগীদের কাছে পরিচিত। তার নেতৃত্বাধীন চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ট্রেনের ছাদে ছিনতাই করতেন বলে জানা গেছে। তারা সবাই মাদকাসক্ত। অনিয়মিতভাবে তারা ট্রেন পরিষ্কার করা ও কুলি হিসেবে কাজ করতেন।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা অঞ্চলে সাম্প্রতিককালে ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীদের হাতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মী রেজাউল করিমের লাশ পাওয়া যায়। ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি নিচে পড়ে যান।
বাংলাদেশ সময়: ১:৫১:১৬ ৭১ বার পঠিত