
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মোতালেব নামে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তিনি ডিএডি পদমর্যাদায় র্যাবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্বৃত্তদের হাতে জিম্মি রয়েছেন র্যাবের অন্তত ৩ সদস্য। গতকাল সন্ধ্যার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব সূত্র জানায়, গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম র্যাবের পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যায়। অভিযানের সময় দুর্বৃত্তরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তিন র্যাব সদস্যকে দুর্বৃত্তরা জিম্মি করে রাখে বলে জানানো হয়। চট্টগ্রাম র্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিকালে পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি দল জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। অতর্কিত হামলায় এক র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া দুর্বৃত্তরা র্যাবের তিন সদস্যকে জিম্মি করে রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আটকে পড়া সদস্যদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, র্যাবের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বাহিনী। এলাকাটিকে বর্তমানে একটি ‘নিষিদ্ধ নগরী’তে পরিণত করা হয়েছে। যেখানে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পরিচয়পত্র। বহিরাগত তো বটেই, এমনকি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকারও সেখানে নিয়ন্ত্রিত। একাধিকবার অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে দুটি শক্তিশালী পক্ষ। আলীনগর বহুমুখী সমিতি’র নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া এবং ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ নিয়ন্ত্রণে রাখছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক।
বর্তমানে এই দুই সমিতিতে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। প্রশাসনের ওপর হামলার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। ২০২৩ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে প্রশাসনের ওপর নারকীয় হামলা চালানো হয়। এতে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক এবং সীতাকুণ্ড থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সন্ত্রাসীরা ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও গুলি চালাতে হয়। এর আগে ২০২২ সালেও একাধিকবার র্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও, তাদের প্রস্থানের পরপরই পুনরায় শুরু হয় প্রকৃতির বুক চিরে মাটি কাটার উৎসব। মূলত প্রবেশমুখে থাকা অতন্দ্র পাহারাদারদের মাধ্যমে সংকেত পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আগেভাগেই পাহাড়ের উপর অবস্থান নেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়, যা উচ্ছেদ অভিযানকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
বাংলাদেশ সময়: ২:২৬:১৩ ১০১ বার পঠিত