বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি ১৫ বছরেও

প্রথম পাতা » অপরাধ » বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি ১৫ বছরেও
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬



বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি ১৫ বছরেও

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কামরুন নাহার নাদিয়া হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি দীর্ঘ ১৫ বছরেও। সেই সময়ের চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি এখনও সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। অনেক দিন ধরে বিচার চলায় বারবার ডেকেও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীর স্বজনের অভিযোগ, নানা কারসাজি ও টালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করছে আসামিপক্ষ। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত আদালতের মালখানা থেকে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

মামলাটি পরিচালনায় যুক্ত আইনজীবী ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আসামিপক্ষ আবারও সাক্ষীদের জেরা করতে চাওয়ায় নতুন করে তাদের হাজির করতে হচ্ছে। ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ-ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকিদের হাজির করা যাচ্ছে না। এ জন্য গত বছর আবারও তাদের নামে সমন জারি করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ রয়েছে ১১ জুন।

তিনি বলেন, দুবার আদালত বদল, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার বড় কারণ বিচারক পরিবর্তন। কারণ, নতুন বিচারকের আবার পুরো ঘটনা জানতে হয়। তাছাড়া মামলার তারিখ হয় দেরি করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ মামলার গতি আরও কমে যায়।

সেদিন যা ঘটেছিল

২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল। নাদিয়ার লাশ গুম করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিলেন তাঁর স্বামী সিকদার শফিকুর রহমান রেজা। কৌশলে স্ত্রীর মৃতদেহ গাড়ির পেছনের আসনে বসে থাকার ভঙ্গিতে রেখে বিভিন্ন সড়কে ঘুরছিলেন তিনি। যাতে কেউ দেখলে নাদিয়াকে মৃত বলে বুঝতে না পারেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তার গাড়িচালক রবিউল ইসলাম হঠাৎ ঢুকে পড়েন শাহবাগ থানা চত্বরে। ধরা পড়েন রেজা। পরে জানা যায়, এর আগের দিন হাজারীবাগের বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি।

এ ঘটনায় তখন গণমাধ্যমে ‘লাশ বসে আছে গাড়িতে!’ শিরোনামে ছবিসহ খবর প্রকাশ হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাজারীবাগ থানায় করা মামলাটির তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রেজা, তার ভাই সাইফুল ইসলাম সোহেল ও তাদের মা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তিনজনই এখন জামিনে রয়েছেন।

বিচারের অপেক্ষায় স্বজনের দেড় দশক

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শরীফ আহমেদ শাহরিয়ার সিরাজী সুজন বলেন, বোনের হত্যাকারীদের সাজার অপেক্ষায় দেড় দশক কেটে গেল। আমরা হতাশ, কতদিন ধরে একটা মামলা এভাবে চলতে পারে। আসামিপক্ষ নানা কৌশলে আদালতের সময় নষ্ট করে চলেছে। তারা টাকা দিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সুজনের অভিযোগ, রেজা মামলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আলামত আদালতের মালখানা থেকে নিয়ে আর ফেরত দেননি। হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রাইভেটকার, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের বাতি, কাঠের টুকরো ও নাদিয়ার সালোয়ার-কামিজ জব্দ করে পুলিশ। মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় রেজা এসব আলামত পাওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ২০১২ সালের ২৫ জুন সেগুলো মালখানা থেকে বুঝে নেন রেজা। সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আদালত কাঠের বাতি ও টুকরো উপস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা দেয়নি আসামিপক্ষ। ফলে আলামত গায়েবের অভিযোগে ওই সময় রেজার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত।

অবশ্য আসামিপক্ষের দাবি, বাদীপক্ষ সাক্ষীদের ঠিকমতো হাজির করতে না পারায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। আর মামলার আলামত কাঠের বাতি ও টুকরো তারা আদালতের কাছে চাননি এবং মালখানা থেকেও নেননি।

বারবার আদালত বদল

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৭ সালে আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেন হত্যায় অভিযুক্ত রেজা। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি স্থানান্তর করা হয় চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। এর আগেই ১৪-১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে কয়েকজনের সাক্ষ্য আবারও নেওয়ার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর আগে মামলাটি প্রথমে ছিল প্রথম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরে সেটি স্থানান্তর করা হয় তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৫:১৬   ১২৫ বার পঠিত  




অপরাধ’র আরও খবর


রাজবাড়ী কাপড় বাজারের নারী উদ্যোক্তার উপর হামলা ও শ্লীলতাহানির ঘটনার ৩জন গ্রেফতার
কিশোরগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
পরিবারের কাছে কিশোরের কান্নাজড়িত কণ্ঠ শোনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, টাকা না পেয়ে শ্বাসরোধে হত্যা—আলোচিত রাফিজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার
রাজবাড়ীতে ৩৪ রাউন্ড ও দুইটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই অস্ত্রধারী গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে ভুয়া আইনজীবীসহ দুইজন আটক, ‘রায় পাইয়ে দেওয়ার’ নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ
মিরপুরে যুবদল কর্মী খুন হামলার লক্ষ্য ছিলেন যুবদল নেতা, ঝিনাইদহ থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি: পুলিশের ধারণা
ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা ১ হাজার টাকা
মিরপুরে যুবদল নেতাসহ গুলিবিদ্ধ ২
কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এনজিও কর্মী গ্রেপ্তার

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ