মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গৃহযুদ্ধ ও তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » গৃহযুদ্ধ ও তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন
শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫



গৃহযুদ্ধ ও তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন

চলমান গৃহযুদ্ধ ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই রোববার ভোটগ্রহণে যাচ্ছে মিয়ানমার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দরিদ্র এই দেশটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সহিংস সংঘাত, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও মানবিক দুর্দশার মুখে পড়েছে। সেসময় দেশটির সেনাবাহিনী শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাত এখনো দেশের বহু অঞ্চলকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে।

এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার দেশে তীব্র খাদ্যসংকটের তথ্য গোপন করতে গবেষকদের ওপর চাপ দিয়েছে যেন তারা ক্ষুধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ না করেন এবং ত্রাণকর্মীদের প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দেন। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের পর থেকে সাংবাদিকদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কম অর্থ সহায়তা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার একটি। দেশটি প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ১২ শতাংশ পাচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মিয়ানমারের ৫ কোটি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২ কোটি মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার দরপতনে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩৬ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অন্তত ৬ হাজার ৮০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের অনুমান। সহিংসতা বাড়তে থাকায় আগামী বছর মিয়ানমারে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রয়োজন হবে।

ডব্লিউএফপির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মিয়ানমারের ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, অর্থাৎ খাদ্যের অভাবে তাদের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে। চলতি বছর দেশজুড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি তিন শিশুর একজন ইতোমধ্যেই খর্বকায় বৃদ্ধির সমস্যায় আক্রান্ত।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩১:১৫   ৬২ বার পঠিত