মহেশখালীর এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া ফাতেমা আক্তার ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে জীবিকার সন্ধানে কক্সবাজার শহরে আসেন। সৈকতে শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে মালা তৈরি করে সংসার চালানো ফাতেমা সার্ফিংয়ের সাথে যুক্ত হয়ে নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেন। কোচ রাশেদ আলমের অনুপ্রেরণায় সার্ফিং শুরু করা ফাতেমা জানান, প্রথম দিকে সার্ফিং করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি। এক পর্যায়ে ঢেউয়ের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি যেন আকাশে উড়ছেন।
সার্ফিং করতে গিয়ে ফাতেমাকে সমাজের নানা কটূক্তি ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
এই মেয়েকে বিয়ে কে করবে? মেয়ে তো কালো হয়ে যাচ্ছে!
এমন মন্তব্যের জেরে পরিবার থেকেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এসেছিল। এক পর্যায়ে বখাটেদের হয়রানির শিকারও হতে হয়েছে তাঁকে। তবে কোচ রাশেদ আলমের সহায়তায় এবং নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিতে তিনি এসব বাধা কাটিয়ে ওঠেন।
এ বছরের এপ্রিলে কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন ফাতেমা। বর্তমানে তিনি জাপানে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত খেলেছেন। ফাতেমা জানান, আন্তর্জাতিক মানের সার্ফার হতে হলে উন্নত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য একটি নিরাপদ সার্ফিং ক্লাব বা স্কুল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন, যেখানে মেয়েরা স্বাধীনভাবে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৯:৫৭ ১৮ বার পঠিত #কক্সবাজার #খেলাধুলা #নারী উন্নয়ন #ফাতেমা আক্তার #সাফল্য #সার্ফিং