ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন আশার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক মডার্নার ব্যক্তিভিত্তিক mRNA টিকা। তৃতীয় ধাপের আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় টিকাটি ইমিউনোথেরাপির ওষুধ পেমব্রোলিজুমাবের সঙ্গে প্রয়োগ করে মেলানোমা রোগীদের ক্যান্সার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমানোর তথ্য পাওয়া গেছে। দুই বছর পর এ চিকিৎসা নেওয়া ৮২ দশমিক ২ শতাংশ রোগীর ক্যান্সার ফিরে আসেনি। তবে টিকাটি এখনো পরীক্ষাধীন এবং ফলাফলকে সব ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মডার্না ও মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক মার্কের যৌথভাবে তৈরি এ টিকার নাম ইনটিসমেরান অটোজিন (intismeran autogene)। এর কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক তৃতীয় ধাপের INTerpath-001 গবেষণায় ১ হাজার ১৩৭ জন রোগী অংশ নেন। তাঁদের মেলানোমা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল।
২২ অক্টোবর প্রকাশিত বিস্তারিত ফলাফল অনুযায়ী, পেমব্রোলিজুমাবের সঙ্গে টিকাটি প্রয়োগ করা রোগীদের ফলাফল শুধু পেমব্রোলিজুমাব গ্রহণকারীদের তুলনায় ভালো ছিল। গবেষণার বিস্তারিত তথ্য ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজির (ESMO) ২০২৬ সালের সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, ইনটিসমেরান ও পেমব্রোলিজুমাবের সমন্বিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে দুই বছর পর ৮২ দশমিক ২ শতাংশের ক্যান্সার ফিরে আসেনি। বিপরীতে, শুধু পেমব্রোলিজুমাব গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৭০ শতাংশ। গবেষণার প্রধান সূচক ছিল ক্যান্সার ফিরে আসা ছাড়া বেঁচে থাকার সময়কাল। এ সূচকের ভিত্তিতে সমন্বিত চিকিৎসায় ক্যান্সার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া, দুই বছর পর সমন্বিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশের ক্যান্সার শরীরের দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়েনি বা তাঁরা এ ধরনের ঘটনা ছাড়াই বেঁচে ছিলেন। শুধু পেমব্রোলিজুমাব গ্রহণকারী দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল প্রায় ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। দূরবর্তী স্থানে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৩৮ শতাংশ। প্রচলিত প্রতিরোধমূলক টিকার মতো এ টিকার উদ্দেশ্য সংক্রমণ ঠেকানো নয়। এটি একটি থেরাপিউটিক ক্যান্সার টিকা, যা রোগীর টিউমারের নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করে তৈরি করা হয়। টিকাটি রোগীর রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য চিনতে ও সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। অন্যদিকে, পেমব্রোলিজুমাব রোগপ্রতিরোধব্যবস্থার ওপর থাকা একটি নির্দিষ্ট বাধা দূর করতে সাহায্য করে, যাতে প্রতিরোধী কোষগুলো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। গবেষণার ফলাফলকে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মেলানোমার ক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল দিয়ে অন্য সব ধরনের ক্যান্সারে একই রকম কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায় না। ফুসফুস, কিডনি ও মূত্রথলির ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে ব্যক্তিভিত্তিক mRNA চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেলেও চিকিৎসাটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন। গবেষণায় সামগ্রিকভাবে বেঁচে থাকার হার বা রোগীদের আয়ু কতটা বাড়ছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো পরিপক্ব হয়নি। মডার্না ও মার্ক জানিয়েছে, ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:০০:১২ ৯ বার পঠিত #mRNA টিকা #ক্যান্সার #চিকিৎসা #মডার্না #মেলানোমা #স্বাস্থ্য