বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকট কাটেনি, উল্টো নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশকদের অভিযোগ, মাত্র ছয়টি কোম্পানি নিয়মিত সরবরাহ করছে এবং চাহিদামতো এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবরের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাজারে এখনো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বাড়তি।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ায় নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। সমিতির দাবি, প্রতি সিলিন্ডারে পরিবেশক পর্যায়ে ১৫০ টাকা খরচ হলেও তারা মাত্র ৫০ টাকা কমিশন পাচ্ছে। সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, গণশুনানি ছাড়া খরচ সমন্বয়ের সুযোগ নেই, তবে বিষয়টি নিয়ে আগামী রোববার কমিশন সভায় আলোচনা করা হবে। এদিকে, এলপিজি ফিলিং স্টেশনগুলোও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও সরবরাহ সংকটের কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কোনো কোনো কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ না করলেও ১ হাজার ৯৬০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যতালিকা দিয়েছে। চাহিদামতো এলপিজি না পাওয়ায় খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করলে প্রতি সিলিন্ডারে ১৫০ টাকা লোকসান হবে। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা বেশি দামে বিক্রি করছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাড়তি দাম ঠেকাতে সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ২৪২টি অভিযানে ৪৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৯:৫৬ ১৮ বার পঠিত #এলপিজি #জ্বালানি সংকট #বাজার অস্থিতিশীলতা #বিইআরসি #ভোক্তা অধিকার