রাষ্ট্রীয় অনেক মৌলিক প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেছে বলে বিশ্বাস করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। রাষ্ট্রের চরিত্র এবং সমাজের সাথে সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো কোনো চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী হয় না, বরং এগুলো প্রতিনিয়ত নবায়নের দাবি রাখে। বাংলাদেশের জন্মের সময় যে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তা বারবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে কিছু নেই। সমাজের ব্যাপারেও নয়। এটি অনেকটা পারস্পরিক ভালোবাসার মতো; চুক্তি করে হয় না, এবং অলিখিত সম্পর্কটি প্রতিনিয়ত নবায়িত করতে হয়।
পাকিস্তান আমলের পুঁজিবাদী ও আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র সেই পুরোনো পথেই থেকে গেছে। শাসকরা রাষ্ট্রকে পুঁজিবাদী ও আমলাতান্ত্রিক করে রাখার স্বার্থে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের আদর্শকে সরিয়ে ফেলা হয়। মৌলবাদী শক্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠার পেছনেও রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য এবং রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে এরশাদ সরকারের আমলে মৌলবাদকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রকে আরও বেশি অগণতান্ত্রিক ও পশ্চাৎপদ করে তুলেছে।
(সম্পাদিত)
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৯:২১ ১৪ বার পঠিত #ইতিহাস #বাংলাদেশ #মতামত #মৌলবাদ #রাজনীতি #রাষ্ট্রীয় নীতি #সংবিধান