![]()
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা জানান, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাদের আবারও হামলার হুমকি দিচ্ছে। এতে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
মামলার আসামিরা হলেন উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের কাহেতধান্দুল গ্রামের মোন্তাজ উদ্দীনের ছেলে মামুন, আবুল কালাম ও মাসুম, আব্দুল হকের ছেলে মোন্তাজ উদ্দীন এবং মামুনের স্ত্রী লিমা।
অভিযুক্ত মামুন বলেন, “আমরা কীভাবে হুমকি দেব? মামলা হওয়ার পর থেকেই আমরা পলাতক আছি।”
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাহেতধান্দুল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আম্বিয়া খাতুনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মোন্তাজ উদ্দীনের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এর জেরে গত ৩১ মে বিকেলে অভিযুক্ত মোন্তাজ উদ্দীনের নেতৃত্বে আসামিরা লাঠিসোঁটা, রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আম্বিয়া খাতুনের বাড়ির উঠানে গিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। এ সময় আম্বিয়া খাতুনের ছেলে সোহেল মিয়া এর প্রতিবাদ করলে মোন্তাজ উদ্দীনের নির্দেশে অভিযুক্ত মামুন ও মাসুম তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সোহেল মিয়া গুরুতর জখম হন।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে আম্বিয়া খাতুন, তার স্বামী রমজান আলী, তাদের অপর ছেলে হৃদয়, শাহজাহান এবং শাহজাহানের স্ত্রী ফারজানা এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা তাদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, একপর্যায়ে অভিযুক্ত মামুন ও কালাম আম্বিয়া খাতুন ও ফারজানাকে টেনে-হিঁচড়ে তাদের পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় অভিযুক্ত লিমা আম্বিয়া খাতুনের গলা থেকে আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং অভিযুক্ত মাসুম ফারজানার গলা থেকে আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। তাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে অটোরিকশাযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত হৃদয় ও রমজান আলীকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত সোহেল মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৬:৪২ ২৪ বার পঠিত