বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ঈশা খাঁ ইউনিভার্সিটি শাটডাউন ও লিগ্যাল নোটিশ

প্রথম পাতা » সারাদেশ » স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে ঈশা খাঁ ইউনিভার্সিটি শাটডাউন ও লিগ্যাল নোটিশ
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬



---

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শাটডাউন ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আজ দুপুর ১টায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন। গত (রোববার ১১ মে) থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাস দাবিতে ক্লাস বর্জন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ রোববার ৩ দিনের সময় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত জেলা শহরের পূর্ব পার্শ্বে গাছবাজার এলাকায় ক্রয়কৃত জমিতে অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি সুরাহা হয়নি। পরে আলোচনা থেকে বের হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাটডাউন ঘোষণা করেন।

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও আইনজীবী এবং  বর্তমান অধ্যয়নরত ৫০ জন শিক্ষার্থী স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন, সমাবর্তন আয়োজন, সহশিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়ন, ট্রাস্টের তহবিল ভেঙে টাকা উত্তোলন, সিনিয়র শিক্ষক সংকট এবং বিধিবহির্ভূত ভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চপদে চাকরির বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রার বরবারে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। অন্যথায় আদালতের দ্বারস্থ হবার কথা বলেছেন তারা। লিগ্যাল নোটিশটি পাঠিয়ছেন সাবেক শিক্ষার্থী আইনজীবী তাশফিক ইসলাম রাহিন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি মতে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ২ বছরের মধ্যে নিজস্ব জমিতে স্থায়ী স্থাপনা করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে ১৪ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়ায় ইউজিসির তালিকায় নিম্নমানে অবস্থান করছে। সনদ নিয়ে পেশাগত জীবনে ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা রয়েছে। ১৪ বছরেও সমবর্তন আয়োজন করা হয়নি। সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং সিনিয়র শিক্ষকের সংকট রয়েছে বিভিন্ন বিভাগে। এছাড়া বিধিবহির্ভূত ভাবে ট্রাস্টের সদস্যরা উচ্চপদে চাকরি করছেন।

সাবেক শিক্ষার্থী এবং আইনজীবী খন্দকার শাফায়েত উল্লাহ আশিক বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। আশাকরি নোটিশে উল্লেখিত বিষয়গুলো আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। অন্যথায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হবো। আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং ন্যায্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর আর এসব অবহেলা অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না।

বিবিএ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ইফতি বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস আমাদের ন্যায্য দাবি। অথরিটি অতিদ্রুত এ দাবি পূরণ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমরা সাবেক শিক্ষার্থীরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চৌধুরী খায়রুল হাসান বলেন, আমি এখন ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। শাটডাউন বিষয়ে কিছু জানি না। আমার দফতরে লিগ্যাল নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা উধ্বর্তন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৫:৫৭   ১৩ বার পঠিত