![]()
রাজধানীর গুলশানে একটি বাসায় অনধিকার প্রবেশ, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ‘ভুয়া আজিজে’র সহযোগী মো. ইউসুফকে (৬১) দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ আরমান আলী আসামিকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামি ইউসুফ মূলত আলোচিত প্রতারক ও ভূমিদস্যু চক্রের হোতা, যিনি ভুয়া আব্দুল আজিজ খানের সহযোগী। এই চক্রটি বিভিন্নভাবে জাল জালিয়াতি করে গুলশানে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায়। মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সুতরাং তাকে তদন্ত স্বার্থে রিমান্ড আবেদন করছি।’
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী আদালতে রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ‘ভুয়া আজিজ নিজেই ইতোমধ্যে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি যে আজিজ নয় তা স্বীকার করেছেন। এদের চক্রটি গুলশানে বড় বড় বাড়ি টার্গেট করে চাঁদাবাজি করে থাকেন। তারই সহযোগী এই ইউসুফ। সুতরাং তদন্ত স্বার্থে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হোক।’
অপর দিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মো. ইউসুফ এবং তার সহযোগী এজাহারনামীয় আসামি ইসমাইল (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে গুলশানের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় জাল কাগজপত্র তৈরি করে বাড়ি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। ইতোপূর্বে হানিফ হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘আব্দুল আজিজ খান’ দাবি করে ভুয়া এনআইডি ও জাল দলিল দিয়ে এই বাড়িটি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। ২০২২ সালে সিআইডি’র তদন্তে ধরা পড়ে যে এই ‘আজিজ খান’ মূলত একজন প্রতারক। গত ১১ এপ্রিলও এই চক্রের হোতা হানিফ হাওলাদার ওরফে ভুয়া আজিজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ মার্চ গুলশান-১ এর ১২৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইসমাইল ও ইউসুফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই বাসায় ঢুকে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করে। এসময় তারা বাসার মালিকের ম্যানেজারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও লেবারদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি তারা বাসার ভেতরের বেশ কিছু আম ও কাঁঠাল গাছও কেটে ফেলে। ওই ঘটনায় গত মাসের ৩ তারিখ বাড়িটির ম্যানেজার আবু শিকদার আবু বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলার মূল হোতা শনাক্তকরণ, পলাতক ১ নম্বর আসামি ইসমাইল এবং নেপথ্যে থাকা অন্যান্য মদতদাতাদের খুঁজে বের করতে ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।’
এই চক্রটি পেশাদার ভূমিদস্যু হিসেবে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। তাদের কাছে আরও অবৈধ অস্ত্র বা সহযোগী রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ণ নাম-ঠিকানা সংগ্রহের জন্য আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৬:৪৭ ৯ বার পঠিত