‘ভূতুড়ে’ ঋণের বোঝা রেখে মারা গেলেন রাসেল

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ‘ভূতুড়ে’ ঋণের বোঝা রেখে মারা গেলেন রাসেল
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬



‘ভূতুড়ে’ ঋণের বোঝা রেখে মারা গেলেন রাসেল

চট্টগ্রামের পটিয়ার হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাসেল আহমদ (৩৭) কখনও ব্যাংকে যাননি। নেই কোনো ব্যাংক হিসাব। অথচ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে’ ঋণের বোঝা রেখে তিনি মারা গেছেন। রক্ত শূন্যতাসহ জটিল রোগে আক্রান্ত এ ব্যক্তি আজ রোববার দুপুরে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গত ১১ জানুয়ারি গণমাধ্যমে ‘১০২ হতদরিদ্রের নামে ৯৬৩ কোটি টাকা ঋণ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, ২০১৮ সাল থেকে অন্যের সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে না পারা রাসেল আহমেদকে রাসেল এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজিয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঋণ নেওয়া হয়। শয্যাশায়ী রাসেল তখন গণমাধ্যমকে জানান, ঋণের আবেদন তো দূরে থাক, কখনও ওই ব্যাংকে যাননি তিনি। কালাম নামের এক ব্যক্তি সে সময়ের ভূমিমন্ত্রীর কাছ থেকে সাহায্য এনে দেওয়ার কথা বলে এনআইডি নিয়ে যান। পরে জানতে পারেন তার নামে ঋণ হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দারিদ্র্যতার কারণে ঠিকমতো চিকিৎসা নিতে পারেননি রাসেল। এরকম অবস্থার মধ্যে তার নামে ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার ঋণ সৃষ্টি হয় ইউসিবির চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শাখায়। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অসুস্থতা, দারিদ্র্য এবং অজানা ঋণের চাপ– এই তিনের মধ্যে দিন কাটছিল তার। প্রায়ই তিনি হতাশা প্রকাশ করতেন এবং নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতেন।

রাসেলের ছোট ভাই রুবেল আহমেদ বলেন, ভাই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ঠিকমতো চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমাদের ছিল না। এর মধ্যে হঠাৎ শুনি, তার নামে কোটি কোটি টাকার ঋণ! বিষয়টা আমাদের জন্য আরও বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় প্রতিবেশী ও যুবদল নেতা ইদ্রিস ফানু বলেন, রাসেল খুবই অসহায় ছিল। ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারত না। এমন একজন মানুষের নামে কোটি টাকার ঋণ হয়েছে এটা কল্পনাও করা যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে, রাসেল আহমদের মতো অন্তত ১০২ দিনমজুর, ভ্যানচালক ও হতদরিদ্র মানুষের নামে ইউসিবির পাঁচটি শাখায় ৯৬৩ কোটি টাকার ঋণ সৃষ্টি হয়। প্রত্যেককে চাকরি বা সাহায্য দেওয়ার কথা বলে এনআইডি নিয়ে পরবর্তীতে সাদা কাগজে সই বা টিপসই নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাদের বাড়িতে ঋণের নোটিশ আসতে শুরু করে। বিএফআইইউর এক তদন্তে উঠে আসে, বিভিন্ন নামে ঋণ সৃষ্টি হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা নগদে তুলে তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী ও ইউসিবির নিয়ন্ত্রণ থাকা জাভেদ পরিবারের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। এই ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে জাভেদ পরিবারকে চিহ্নিত করে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৩:০১   ১০৬ বার পঠিত  




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


উত্তরায় নাশকতার পরিকল্পনাকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারে কলেজছাত্র নাঈম হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে ১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট
গাজীপুরে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ১৫ দিনের সময়সীমা
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে সরকারের উদ্যোগ
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৭১ জন আটক
টঙ্গীতে কাজ শেষে ফেরার পথে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
বিচারিক জটে স্থবির আদালত: চার দশকের আইনি লড়াইয়ের পর বিচার
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি
গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করলেন নেতানিয়াহু

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ