পদ্মায় বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় অগণিত প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।


শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

শাপলা চত্বরে হত্যা ও চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ আলোচিত দুই মামলা তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায়

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল » শাপলা চত্বরে হত্যা ও চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ আলোচিত দুই মামলা তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায়
শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬



শাপলা চত্বরে হত্যা ও চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন ৩১টি মামলা তদন্তাধীন। এর মধ্যে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যা-নির্যাতন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রয়েছে। শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামি ২২ জন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ আসামি ২২ জন। ফজলে করিম চৌধুরীর মামলাটি ইতোমধ্যেই তুমুল আলোচিত হয়েছে। এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর আসামিকে জামিনের বিনিময়ে কোটি টাকা চাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করছে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি। মামলা দুটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশন থেকে বারবার সময় চাওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যা-নির্যাতনের মামলাটি তদন্ত করছেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা এফএম ইফতেখারুল আলম। জানতে চাইলে তিনি মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শাপলা চত্বরের ঘটনায় অনেক বড় মামলা। দেশব্যাপী মামলার বিস্তৃতি। প্রতিবেদন দাখিল করতে একটু সময় লাগবে।’ ২০১৩ সালের ৫ মে কয়েক দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ ডাকে হেফাজত। ওইদিন রাতে তাদের সমাবেশ থেকে বিতাড়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রদর্শন করে। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সমাবেশে ৬১ জনের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ করা হয়। ওই বছরের ১৯ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধিকারের পেজে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি সর্বশেষ ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। পরে সময় আরও দুই মাস বাড়ানো হয়। আগামী ৫ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম শহরে তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ-সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের হলে মিস কেস (নং-১০/২৫) হিসাবে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ মামলাটি তদন্ত করছিলেন। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। সর্বশেষ সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এরই মধ্যে সংসদ-সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সাইমুম রেজা তালুকদার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন প্রসিকিউশন থেকে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সম্রাট রোবায়েত। তার অভিযোগ-জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক সংসদ-সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে রক্ষার চেষ্টা হয়েছিল। তাজুল ইসলাম এ মামলায় ফজলে করিমের ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে দেননি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ করেছেন সম্রাট রোবায়েত। তিনি ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে হওয়া মামলার অভিযোগকারী। এর আগে তিনি চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য সংগঠক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ৯ মার্চ সম্রাট রোবায়েত চিফ প্রসিকিউটর বরাবরে এক লিখিত আবেদন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ৯ মার্চ সকাল নয়টায় প্রসিকিউশন অফিসের কনফারেন্স রুমে চট্টগ্রামের এই মামলার বিষয়ে আলোচনা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এই মামলার ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন সে বিষয়ে তিনি একমত। এতে তার কোনো আপত্তি নেই।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন উদ্দেশ্যে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ। অভিযোগকারী সম্রাট রোবায়েতের সঙ্গে আসামি ফজলে করিম চৌধুরীর মুনিরীয়া দরবার শরিফ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যা-নির্যাতনের মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২ জনকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামছুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোল্লা নজরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ।

আর চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ-সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-সাবেক মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক এমপি মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১০:০৬   ১০ বার পঠিত