পদ্মায় বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় অগণিত প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।


বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

পদ্মায় বাসডুবি: পরিচয় মিলেছে নিহত ২৬ জনের

প্রথম পাতা » জাতীয় » পদ্মায় বাসডুবি: পরিচয় মিলেছে নিহত ২৬ জনের
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬



পদ্মায় বাসডুবি: পরিচয় মিলেছে নিহত ২৬ জনের

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার আগমুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীর প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। বুধবার বিকেলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে আটজন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং সাতজন নিস্পাপ শিশু রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে বাসটি সরাসরি পানিতে পড়ে ডুবে যায়। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি পানি থেকে তোলা সম্ভব হলেও ততক্ষণে অনেক প্রাণ ঝরে গেছে।

নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা। বাকিরা কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ ও ঢাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ীর ১৮ জন হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লালমিয়া সড়কের মৃত ইসমাইল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), সজ্জনকান্দার মৃত ডা. আবদুল আলিমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), কাজী মুকুলের মেয়ে কাজী সাইফ (৩০), কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), দাদশী রামচন্দ্রপুরের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), মিজানপুর বড়চর বেনি নগরের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোসনা (৩৫), গোয়ালন্দ ছোট ভাকলার চর বারকিপাড়ার রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কালুখালী বোয়ালিয়ার ভবানীপুরের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে ফাইজ শাহানুর (১১), রতনদিয়া মহেন্দ্রপুর বেলগাছির আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), ছেলে আব্দুর রহমান (৬), ঝাউগ্রামের মজুন শেখের ছেলে উজ্জল শেখ (৪০), চরমদাপুরের আফসার মন্ডলের ছেলে আশরাফুল, ছানাউল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর এবং বালিয়াকান্দি পশ্চিম খালখোলার আরব খানের ছেলে (গাড়িচালক) আরমান খান (৩১)।

বাকি আটজন হলেন কুষ্টিয়া মজমপুরের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খাগড়বাড়িয়ার হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), খোকসা সমাজপুর ধুশুন্দুর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইসরাফিল (৩), সমসপুরের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ শৈলকুপা থানার কাচেরকোল খন্দকবাড়িয়ার নুরুজ্জামানের মেয়ে আরমান (৭ মাস), গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী নোয়াধা এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার পলাশবাড়ী মথুয়ারা মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০) এবং ঢাকার আশুলিয়া থানার বাগধুনিয়া পালপাড়ার মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০)।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করেছে।

স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন নারী মারা যান। বাসের ভেতর থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ২২ জনের মরদেহ। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখনো অন্তত ৬ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের সন্ধানে পদ্মার বুকে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ডুবুরিরা। স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর কান্নায় এখন রাজবাড়ীসহ পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩২:৫৩   ১৮ বার পঠিত