পদ্মায় বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় অগণিত প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।


বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ছড়িয়ে পড়ছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট সিকাদা

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ছড়িয়ে পড়ছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট সিকাদা
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬



ছড়িয়ে পড়ছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট সিকাদা

কোভিড বা করোনা ভাইরাসের নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাদা’ ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে নজরদারি করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সিকাদা’কে উচ্চ মিউটেশনযুক্ত বলে অভিহিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন ইউএসএ টুডে বলছে, এই ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যের ময়লা পানিতে ও ২০টিরও বেশি দেশে পাওয়া গেছে। কিছু অঞ্চলে এটি মোট সংক্রমণের প্রায় ৩০ ভাগ পর্যন্ত দায়ী। এটি পূর্বের স্ট্রেনের মতোই উপসর্গ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্তমান ভ্যাকসিনগুলি সংক্রমণ প্রতিরোধে কম কার্যকর হতে পারে। তবে গুরুতর অসুস্থতা থেকে সেসব ভ্যাকসিন বা টীকা রক্ষা করতে এখনও সক্ষম।

কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে পরীক্ষা, এন৯৫ মাস্ক ব্যবহার এবং বুস্টার শট নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সিকাদা হলো বিএ.৩.২ ভ্যারিয়েন্টের ডাকনাম। এটি প্রথম ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী একজন ব্যক্তির শরীর থেকে শনাক্ত হয়। সিকাদা প্রজাতির হেলিকটিস পোকার নাম থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। এটি দীর্ঘ সময় ‘অদৃশ্য’ বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ অবস্থায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। ১১ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ময়লা পানির নমুনা থেকে ২৫টির বেশি রাজ্যের ১৩২টি স্থানে বিএ.৩.২ পাওয়া গেছে। কমপক্ষে ২৩টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভ্যারিয়েন্ট। এমন প্রথম বৈশ্বিক ঘটনা ধরা পড়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এই ভ্যারিয়েন্টটি উচ্চ-মিউটেশনযুক্ত। কারণ এতে ৭০-৭৫টি মিউটেশন রয়েছে, যা জেএন/১ থেকে আলাদা। সিডিসির ১১ই ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, এটি ২৫টি রাজ্যে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আছে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, নিউ ইয়র্ক, টেক্সাস, ম্যাসাচুসেটস, ভার্জিনিয়া, হাওয়াই, নিউ জার্সি, ওয়াইমিং ইত্যাদি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওয়েস্টওয়াটার স্ক্যান’ অনুযায়ী, ১৪ই মার্চ পর্যন্ত এটি ময়লা পানির নমুনায় মাত্র ৩.৭ ভাগে পাওয়া গেছে। এর প্রধান স্ট্রেন এক্সএফজি ৫৩ ভাগ এবং এলএফ.৭ হলো ১০.৩ ভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জেএন.১ থেকে ভ্যারিয়েন্টের মিউটেশনগুলি বর্তমান ভ্যাকসিনকে সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়া থেকে বিরত রাখে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, সিকাদা যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান স্ট্রেন হয়ে উঠতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। জার্মানি এবং ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসসহ কিছু উত্তর ইউরোপীয় দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যেই মোট করোনা আক্রান্তের প্রায় ৩০ ভাগের জন্য দায়ী। সিকাদার উপসর্গ অন্যান্য কোভিড স্ট্রেনের মতোই। সিডিসি অনুযায়ী, লক্ষ্য রাখার মতো কিছু সাধারণ উপসর্গ হলো- নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হওয়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, হাঁচি, গলায় ব্যথা, কাশি, গন্ধ বা স্বাদের পরিবর্তন। কিছু পরবর্তী ভ্যারিয়েন্টে ‘রেজারব্লেড থ্রোট’ (গলায় তীব্র ব্যথা) দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সিকাদা অন্য স্ট্রেনের চেয়ে গুরুতর নয়। গুরুতর গলা ব্যথা সাধারণ কোভিডের উপসর্গের মতোই দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৫:২১   ১৭ বার পঠিত