![]()
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে (জেল হাজত) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আদালত।
আজ রোববার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হয় এই দুই অভিযুক্তকে। আদালত তাদের ১২ দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আগামী ২ এপ্রিল তাদের ফের আদালতে তোলা হবে।
দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই ফরেনার্স আইনের ১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা ছিল। আজ রোববার নতুন করে অন্য একটি মামলায় ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ (প্রিভেনশন) আইন’ বা ইউএপিএ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যাতে কারাগারে গিয়ে দুই অভিযুক্তকে জেরা করতে পারে। আদালত তাতে সম্মতি জানান। সেক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে ফয়সাল ও আলমগীরকে কারাগারে গিয়ে জেরা করবেন এনআইএ কর্মকর্তারা। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে।
এদিকে, আদালতের নির্দেশের পর যখন অভিযুক্তদের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে ফয়সাল বলেন, ‘আমি এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত নই।’ কে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন, ‘সেটা আমি জানি না, আমি করিনি। অন দ্যা স্পটে ছিলাম না। আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।’ আদালতে তোলার সময়ও ফয়সাল বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে যুক্ত না।’
এর আগে, তাকে বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
গত ৭ মার্চ রাতে অভিযুক্ত দু’জনকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।
৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী। আর ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।
এসটিএফ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। কয়েক মাস বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন তারা। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তার আগেই আটক হন।
পরে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাদের বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালত ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন। রিমান্ড শেষে আজ রোববার ফের তাদের আদালতে তোলা হয়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদি।
বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৯:৫৯ ১৫ বার পঠিত