![]()
বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব ঘটেছে। এরা মুখে বলে এক, কাজে করে আরেক। তাদের মাধ্যমে সৎ শাসন সম্ভব নয়, তাই সতর্ক থাকতে হবে। একটি দল সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে চায়। অথচ এখনই ব্যালট ছাপাচ্ছে, বিকাশ নম্বর নিচ্ছে এবং মানুষের সম্মানহানি করছে। আইডি হ্যাক্ড হয়েছে বলে মিথ্যা বলছে। এদের থেকে সাবধানে থাকবেন। বুধবার দুপুর ১টায় বরিশাল বেলসপার্ক ময়দানে বিএনপি’র সমাবেশে তিনি এ সব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আগামী ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নই হবে দলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ১৩ তারিখ থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাল খনন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নসহ অনেক কাজ করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, নদীভাঙন রোধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন। বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ. বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়ন, উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য বিক্রিতে কৃষকদের সহায়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল নেতা কর্মীদের বলছে ১২ তারিখ পর্যন্ত ভোটারদের পা ধরে থাকবা। ১৩ তারিখ থেকে ৫ বছর ভোটাররা তোমাদের পা ধরে থাকবে। কিন্তু, আমি বলি ১৩ তারিখ থেকে আগামী ৫ বছর জনগণের পা ধরে থাকবেন। কারণ যার পেছনে জনগণের সমর্থন নেই, তার পরিণতি আমরা ৫ই আগস্টে দেখেছি। জনগণের জন্যই বিএনপি’র সব পরিকল্পনা এবং তাদের জন্যই দেশের উন্নয়ন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে হলে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। জনগণকে ১২ তারিখ তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপি নেতা বলেন, শুধু মাঠেই নয়, সমাজের সবক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের মা-বোনদের সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো অগ্রগতি বা মর্যাদাপূর্ণ রাজনীতি আশা করতে পারে না।মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে
আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার ও জহির উদ্দিন স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রমুখ।
ফরিদপুরে তারেক রহমানফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপি’র চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা নির্বাচনের আগেই অসৎ পথ অবলম্বন করছে তারা নির্বাচিত হলে কীভাবে সৎ পথে দেশ পরিচালনা করবেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার আগে পাক সেনারা এদেশের নারীদের যেভাবে অবলয়ন করতো সেভাবেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নারীকে অপমান করে ক্ষমতায় যেতে চায়। বিএনপি দেশের উন্নয়নে একটি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। এরপরে নির্বাচিত হলে সেই রূপরেখার আলোকে দেশের প্রতিটি জেলায় তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপর ভিত্তি করে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে।
এ সময় তিনি ফরিদপুরের পাঁচটি জেলায় ১৬জন প্রার্থীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া শোনেন। এরপর মাঠে আসা নেতাকর্মীদের কাছে তাদের প্রার্থীরা যে সমস্যার কথা বলেছেন তাতে তারা একমত কিনা জানতে চান। কর্মীরা তাদের নেতাদের সঙ্গে একমত পোষণ করলে তিনি সকল দাবির পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে বলে জানান। এ সময় তিনি বলেন, প্রার্থীদের দাবি পূরণ করতে হলে সকলকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, একটি দল ভোটারদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, এনআইডি কার্ডের ফটোকপি নিচ্ছে। তারা ভোট পাওয়ার জন্য এ ধরনের অসৎ কাজ করছে। ভোটের আশায় যারা অসৎ কাজ করছে তারা কীভাবে সৎ পথে দেশ চালাবেন। তিনি মনে করেছিলেন এ অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে কিন্তু প্রার্থীদের কাছ থেকে এত সমস্যার কথা শুনে তিনি অবাক হয়েছেন। তিনি বলেন- ফরিদপুরের চরাঞ্চলের অনাবাদি জমিকে আবাদের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি জেলার স্ব স্ব উৎপাদিত পণ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী কলকারখানা তৈরি করা হবে। জেলার নদীভাঙন রোধ করে কৃষি জমি রক্ষা করতে হবে। পাট শিল্পকে উন্নত করতে হবে। এজন্য কৃষকদের কৃষক কার্ড দেয়া হবে। পরিকল্পনা করেছি বিভিন্ন জেলার বৈশিষ্ট্যের উপর ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। নারীদের শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করবো। এটা কয়েক বছর চালু রাখা গেলে দেশের মানুষ একদিন স্বাবলম্বী হবে। স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করবো। হাসপাতালগুলোকে মেরামত ও দেশের সকল ইউনিয়নে হেল্থ কেয়ার চালু করা হবে। এ এলাকার মানুষের জন্য পদ্মা ব্যারেজ চালু করবো। এতে এ এলাকার কৃষক উপকৃত হবেন। এজন্য সকলের সমর্থন দরকার। তাই ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। এ পরিকল্পনা বিএনপি’র। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করা হবে।
ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর জেলা বিএনপি’র আয়োজনে দলটির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ঈসার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাসুকুর রহমান মাসুক সহ পাঁচটি জেলার আহ্বায়ক ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।
বাংলাদেশ সময়: ৪:৩২:৫৮ ৪৩ বার পঠিত