মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ

প্রথম পাতা » জেলা জজ কোর্ট » আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ
রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬



আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের নামে থাকা প্লট, ফ্ল্যাট ও প্রায় সাড়ে ১৪ একর জমি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুদকের পৃথক দুই আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। জব্দকৃত এসব সম্পদের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৩৩০ টাকা।

দুদকের পৃথক দুই আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অন্যান্যরা হলেন আছাদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী আফরোজা জামান এবং দুই ছেলে আসিফ শাহাদাৎ ও আসিফ মাহদিন এবং মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা। পরিবারের সদস্যদের বাইরেও তার শ্যালিকা পারভীন সুলতানা ও ফাতেমাতুজ্জোহরা এবং শ্যালক হারিচুর রহমানের সম্পদও জব্দের আওতায় রয়েছে।

আসাদুজ্জামানের জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে গুলশানের জোয়ার সাহারায় ১০ কাঠা জমির উপর ৬ তলা আবাসিক ভবন, ধানমন্ডি ও গুলশানে একটি করে ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে জমি, আফতাব নগরে ৬ কাঠা জমি। এছাড়া গাজীপুর, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জেও জমি রয়েছে। এসব সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩০ টাকা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ফরিদপুরের বিভিন্ন মৌজায় ১৪ দশমিক ৩০ একর জমি। এছাড়া রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে বলা হয়, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, তার পরিবার ও অন্যান্য আত্মীয়দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান এবং এজন্য একটি অনুসন্ধান টিম কাজ করছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে— অভিযুক্তরা তাদের সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব স্থাবর সম্পদ জব্দ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় সম্পদ বেহাত হয়ে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত আজ এই আদেশ দিলেন।

২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা থেকে আছাদুজ্জামান মিয়াকে আটক করে র‍্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আছাদুজ্জামানের সম্পদের তথ্য নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক মানবজমিন, পরে আরও কয়েকটি পত্রিকায় আছাদুজ্জামানের ‘বিপুল সম্পদের’ তথ্য তুলে ধরা হয়।

চব্বিশের ১৬ জুন ‘মিয়া সাহেবের যত সম্পদ’ শিরোনামে মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাড়ির পর বাড়ি। জমি এবং ফ্ল্যাটের সারি। কী নেই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়ার। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তবে শুধু নিজের নামে নয়। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামেও বিপুল সম্পত্তি গড়েছেন ডিএমপি’র সাবেক এই কমিশনার।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুলিশের সাবেক এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এই তিন জেলায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি।’

আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২১:০৩:১৭   ৫১ বার পঠিত