মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশ সংঘবদ্ধ মানব পাচারে মৃত্যুদণ্ড, অভিবাসী চোরাচালানে ১০ বছর

প্রথম পাতা » অন্তবর্তী সরকার » মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশ সংঘবদ্ধ মানব পাচারে মৃত্যুদণ্ড, অভিবাসী চোরাচালানে ১০ বছর
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬



সংঘবদ্ধ মানব পাচারে মৃত্যুদণ্ড, অভিবাসী চোরাচালানে ১০ বছর

সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দ্বারা মানব পাচারের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসী চোরাচালন করেন বা করার চেষ্টা করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ব্যতিরেকে মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তির ছবি ও পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে তাও অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ছয় মাস দণ্ডের বিধান রেখে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণয়ন করেছে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন ও অধ্যাদেশ।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি মানব পাচারের অপরাধে জড়িত হলে তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে কারো ক্ষতিসাধন বা হয়রানির উদ্দেশ্যে কেউ মিথ্যা মামলা দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে এতে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধ্যাদেশ অনুমোদনের পর গত ৬ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই অধ্যাদেশ পাশের মধ্য দিয়ে রহিত হয়েছে ২০১২ সালে প্রণীত মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন।

অধ্যাদেশে অভিবাসী চোরাচালানের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফরেনার্স অ্যাক্টের ২ ধারা এর ক্লজ (এ) তে উল্লিখিত সংজ্ঞা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিক হিসেবে গণ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশ হতে এইরূপ কোনো রাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করানো যেখানে উক্ত ব্যক্তি সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন। সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে এইরূপ কোনো রাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করানো যেখানে উক্ত ব্যক্তি সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন—তাহলে তা হবে অভিবাসী চোরাচালানের অপরাধ।

এছাড়া অধ্যাদেশের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল বা প্রচলিত অন্য কোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক সাত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সংবাদ মাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ করলে অপরাধ: অধ্যাদেশের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ব্যতিরেকে মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার কোনো ব্যক্তির নাম-ঠিকানা বা তার ছবি বা অন্যবিধ তথ্য বা তার পরিচয় কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদ মাধ্যমে কিংবা অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন, তাহলে তা অপরাধ হবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত, বিচার ১৮০ কার্যদিবসে সম্পন্ন: মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগ থানায় বা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা যাবে। থানায় অভিযোগ দায়ের বা ট্রাইব্যুনাল হতে তদন্তের নির্দেশ পাওয়ার পর তদন্ত সংস্থা বা ইউনিট প্রধানের কাছ হতে দায়িত্ব প্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারলে যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে তদন্তের সময়সীমা আরো ৪৫ দিন বৃদ্ধি করতে পারবে ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত শেষে বিচার হবে এ-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে বিচার শেষ করতে হবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারী ও শিশু ভিকটিমের সুরক্ষার প্রয়োজনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে (ক্যামেরা ট্রায়াল) বিচারকাজ পরিচালনা করতে পারবে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিলের বিধান রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৯:২৮   ৮০ বার পঠিত  




অন্তবর্তী সরকার’র আরও খবর


বিদায়ী ভাষণে ড. ইউনূস নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমার, আপনার, সবার
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেলেন পাঁচজন
শপথ বঙ্গভবনের পরিবর্তে কেন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়, জানালেন আইন উপদেষ্টা
নিরঙ্কুশ জয় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ
শীর্ষ ৩ নেতার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা
ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ‘আনফ্রেল’ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ
সশস্ত্র বাহিনীর ১৪১ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি
যে কেন্দ্রে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ