অনলাইন গেমস আসক্তি ভয়ঙ্কর পরিণতি

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » অনলাইন গেমস আসক্তি ভয়ঙ্কর পরিণতি
শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫



অনলাইন গেমস আসক্তি ভয়ঙ্কর পরিণতি

অনলাইন গেমস আসক্তিতে ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনছে শিশু-কিশোরদের জীবনে। এই আসক্তি কিশোর রোহানের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। সে এখন মানসিক ভারসাম্য হারা। পাবজি, ফ্রি ফায়ারের মতো গেমসে আসক্ত ছিল রোহান। রোহানের মা শরিফা বেগম বলেন, ওর বাবা দেশের বাহিরে কুয়েতে থাকে। ওর যখন ১৬ বছর বয়স তখন ওর বাবা ওর জন্মদিনে কুয়েত থেকে একটি নতুন মোবাইল পাঠায়। আমার অমত থাকা সত্ত্বেও সে ছেলেকে ভালোবেসে একটা স্মার্ট ফোন উপহার দেয়। আর এই ফোনটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় আমাদের ছেলের জীবনে। এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে ছোট সংসার আমার। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে এই ছেলেকে নিয়েই থাকি। ছোট বেলা থেকেই ও খেলাধুলা বেশ পছন্দ করতো। প্রতিদিন বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে বাসার পাশের একটা খেলার মাঠে খেলতে যেতো। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে যখন সবাইকে বাড়িতে থাকার কথা বলা হয়, তখন থেকেই ও আমার ফোন দিয়ে বিভিন্ন গেম খেলা শুরু করেছিল। এরপর যখন ওর হাতে নতুন স্মার্টফোন এলো তখন তো আর কথাই নেই। সারাদিন ঘুম খাওয়া বাদ দিয়ে ফ্রি ফায়ার, পাবজি খেলা শুরু করলো।

এই গেম খেলাটা এক রকম নেশার মতো হয়ে গেল ওর জীবনে। আমি প্রথম দিকে এটা তেমন গুরুত্ব দেইনি। তখন আমি ভেবেছিলাম সারা দিন বাড়িতে থাকে, কোনো কাজ নেই, তাই সময় কাটানোর জন্য ফোনে গেম খেলে। কিন্তু যখন দেখলাম ও এই গেম খেলতে খেলতে একটা পর্যায়ে গোসল করা, খাওয়া, ঘুম সব বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি সে ফোন নিয়েই ওয়াশরুমে যায়। ঘুমায় ভোরের দিকে আর ওঠে বেলা তিনটায়। এভাবে চলতে চলতে একটা পর্যায়ে গিয়ে সে পড়াশোনার প্রতি সকল আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। করোনার পরিস্থিতি যখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তখন স্কুল খুলে দেয়া হলে সে স্কুলে পর্যন্ত যেতে চায় না। এমনকি আমি জোর করে পাঠালে সে স্কুলে না গিয়ে খেলার মাঠে বসে গেম খেলতো। আমি এই সবকিছু জানতে পেরে ওর থেকে ফোনটা নিয়ে নেই, তখনই শুরু হয় বিপত্তি। অদ্ভুত সব আচরণ করতে থাকে। খাওয়া ঘুম সব বাদ দিয়ে দেয়, ঘরের জিনিস ভাঙচুর করতে থাকে। বাড়িতে কোনো আত্মীয় আসলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। এভাবে সে আর পড়াশোনাও চলমান রাখতে পারে না। এসএসসি পরীক্ষার সময়ে জোর করে পরীক্ষা দিতে পাঠালেও পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় কয়েকটা বিষয়ে পাস করতে পারেনি। আমার একমাত্র ছেলের জীবনটা এভাবেই নষ্ট হয়ে গেল।

অনলাইন গেমসে মারাত্মকভাবে আসক্ত ফাহাদ। ফাহাদের বাবা আসলাম শেখ বলেন, আমি এবং আমার স্ত্রী দু’জনেই চাকরিজীবী হওয়ায় দু’জনকেই শুক্রবার বাদে সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে বাহিরে থাকতে হয়। এজন্য ফাহাদের ছোট বয়স থেকেই ওকে তেমন সময় দিতে পারতাম না আমরা। স্কুল থেকে ফিরে আগে ও টিভিতে কার্টুন দেখতো। একদিন আমাকে বললো বাবা, সবার ফোন আছে। আমাকেও একটা ফোন কিনে দাও। তাহলে অনলাইন ক্লাসগুলো আমার ফোন দিয়েই করতে পারবো। আমিও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেই। কিছুদিনের মধ্যেই ওকে ভালো একটা ফোন কিনে দেই। এখন ও এই ফোন দিয়ে বাড়িতে কি করে তা তো আর আমরা দেখতে পাই না। ওকে দেখাশোনা করার জন্য বাড়িতে একজন কেয়ারটেকার রাখা আছে। ফোন কিনে দেয়ার কিছুদিন পর দেখি রাতে ও রুমের মধ্যে দরজা আটকে থাকে। খেতে ডাকলে আসে না। অনেক রাত পর্যন্ত রুমে আলো জ্বলে। কিন্তু পড়ার কোনো আওয়াজ আসে না। এমনকি পরীক্ষায় সে আর আগের মতো ভালো ফলাফল করতে পারে না।

কারণস্বরূপ বিভিন্ন অজুহাত দেয় আমাকে আর ওর মাকে। একসঙ্গে কোথাও গেলে বা একসঙ্গে বসে থাকলে ও ওই ফোনের দিকেই তাকিয়ে থাকে। আস্তে আস্তে ও অসামাজিক হয়ে যাচ্ছিলো। শুধু তাই নয়, মানসিক বিকৃতিও ঘটে ওর। মেজাজ খিটখিটি হয়ে যায়, ভালো কথা বললেও রেগে যায়, আমাদের সঙ্গে ভালো করে কথা বলে না, ওর কোনো বন্ধু বাড়িতে আসলে তাদের সঙ্গে পর্যন্ত দেখা করে না। এরপর আমরা কোনো উপায় না পেয়ে ওকে জিল্লুর রহমান নামে একজন মানসিক রোগের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। তিনি বলেন, আপনাদের ছেলে কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। পরিবারকে রেখে এক বছর মেয়াদি চিকিৎসা নিলে সে আশা করি সুস্থ হয়ে যাবে। ওকে ইনডোর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হবে। আসলে ওর কাউন্সেলিং বেশি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অনলাইন গেমসে আসক্তি নিয়মিত মাদক গ্রহণের মতোই ভয়ঙ্কর।

বাংলাদেশ সময়: ১:১৪:০০   ৫১৩ বার পঠিত  




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা
১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোট ৯ এপ্রিল
আরও ১২০২টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হাইকোর্টের ২ বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেসব নির্দেশনা আইন মন্ত্রণালয়ের
অটো পাশ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন
বাসসের এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন
‘জখম বা হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে প্রহার বৈধ করেছে তালেবান
সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেয়া হলে সেটা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ