বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোলের ঠোটা গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা সুন্দরবন ও নদীকেন্দ্রিক। শ্যালা নদী ও পশুর নদের মোহনায় অবস্থিত এই গ্রামে শতাধিক পরিবার বসবাস করে, যাদের প্রায় সবাই মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামের বাসিন্দা মোহাজ্জেম খলিফা জানান, এখানে কোনো পরিবারেরই উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই। স্থানীয় কিশোর আবু বক্কর, মুছা সওদাগর ও শাহজাহান জানায়, জীবিকার প্রয়োজনে ছোট বয়স থেকেই শিশুরা মাছ ও কাঁকড়া ধরার কাজে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবু বক্কর বলে,
সিস্টেমটা হলো, এজাগা থাকলে ল্যাহাপড়া হয় না। সিজনে ছোড ছোড পোলাপানও ম্যালা টাহা ইনকাম করে। টাহার চোখ দ্যাখলে আর ল্যাহাপড়া হয় না।
কুলসুম আক্তার নামের এক গৃহবধূ জানান, তিনি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন এবং ছোটবেলায় পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তার মেয়ে লাবিবা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ছে এবং বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে কুলসুমের আশঙ্কা, এলাকার বাস্তবতায় মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন।
বাংলাদেশ সময়: ৮:৫১:৪৯ ২৯ বার পঠিত #জীবনযাত্রা #দারিদ্র্য #বাগেরহাট #মোংলা #শিক্ষা #সুন্দরবন