শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

এল নিনোর পর লা নিনার পূর্বাভাস: বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় পরিবর্তনের শঙ্কা

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » এল নিনোর পর লা নিনার পূর্বাভাস: বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় পরিবর্তনের শঙ্কা
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬



বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার আলোচনায় এল নিনো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, বর্তমান এল নিনোর প্রভাব এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এর প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাব কমতে শুরু করলে প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এবং লা নিনা তৈরি হতে পারে। যদিও এল নিনোর পরপরই লা নিনা আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার পরিবর্তনের ওপরই পরবর্তী আবহাওয়ার পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

এল নিনো ও লা নিনা হলো প্রাকৃতিক জলবায়ু ব্যবস্থার দুটি বিপরীত পর্যায়। সাধারণত প্রতি তিন থেকে সাত বছর পরপর প্রশান্ত মহাসাগরে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) এই পুরো ব্যবস্থাকে বলে ‘এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন’ বা এনসো (ENSO)।

এল নিনোকে এনসো ব্যবস্থার উষ্ণ পর্যায় বলা হয়, যখন প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বমুখী বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ পানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। অন্যদিকে লা নিনা হলো এর বিপরীত অবস্থা, যেখানে বাণিজ্য বায়ু শক্তিশালী হয় এবং উষ্ণ পানি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে সরে যায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের ধরনে পরিবর্তন দেখা দেয়। ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তৈরি হওয়া দুর্বল লা নিনা ২০২৬ সালের শুরুতেই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বছরের মাঝামাঝি সময়ে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হয়। এনওএএর আবহাওয়াবিদ নাথানিয়েল জনসন জানিয়েছেন, বর্তমান এল নিনো ২০২৭ সালের বসন্ত অথবা গ্রীষ্মের শুরুতে এনসো-নিরপেক্ষ অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। লা নিনা তৈরি হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, পানি ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মোকাবিলার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৯:৫০   ২০ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #