ফ্রান্সের সরকার বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দমন, গ্রেপ্তার ও আহত করার পাশাপাশি সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফ্রান্সজুড়ে দশ হাজারেরও বেশি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ইউনিয়ন ও শিক্ষকরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, মঙ্গলবার দিনের শুরু পর্যন্ত দেশজুড়ে বিক্ষোভে ৮৬ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। তবে শ্রমিকদের সাধারণ কনফেডারেশন সিজেটির হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে ১০টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে। ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে অথবা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর লঁস (Lens)-এ পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর ছোড়া একটি শব্দবোমার আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর তার একটি হাত হারিয়েছে। ফরাসি সরকার স্বীকার করেছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠন এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।
বাংলাদেশ সময়: ৭:০১:৫৮ ৩ বার পঠিত #আন্তর্জাতিক #গ্রেপ্তার #পুলিশ #ফ্রান্স #বিক্ষোভ #শিক্ষার্থী #সহিংসতা