কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহের পাশ থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সিএনজি চালক সুমনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকায়। গতকাল ভোরবেলা স্থানীয়রা ধানক্ষেতে ওই কিশোরীর মরদেহ এবং পাশে পরিত্যক্ত সিএনজিটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে লালমাই থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, জীবন বাঁচাতে কিশোরী জান্নাতুল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে পড়ে যায়।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ান তলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে সে কুমিল্লাতেই বড় হচ্ছিল এবং কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যায়াতনে সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করত।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বাসা থেকে বের হয়। পরবর্তীতে সে বান্ধবীর সাথে কক্সবাজার ভ্রমণে যায় এবং বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত প্রায় পৌনে ১২টায় কুমিল্লা হোটেল নূরজাহানে প্রবেশ করার পর সে তার বাবার মোবাইলে লাইভ লোকেশন পাঠায়। রাত সোয়া ১২টার দিকে সে হোটেল থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর বাবার ফোনে একটি আকুতি ভরা বার্তা পাঠায়—”বাবা আমাকে নিয়ে যাও, আমি ভয় পাচ্ছি।”
পরদিন ভোরবেলা তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম মেয়েকে একাধিকবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। মেয়ের পাঠানো লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে তিনি লালমাইয়ের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত লালমাই থানায় পৌঁছে তিনি মেয়ের লাশের সন্ধান পান।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ‘মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সিএনজি চালক সুমন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৫:৪৫ ১১ বার পঠিত #তাজমিনকে #পরিচয় #বহনকারী #শনাক্ত #সিএনজিচালকের