ঢাকার ধামরাইয়ের পাঠানটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধর, অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা, উপবৃত্তি বণ্টনে অনিয়ম এবং পরীক্ষায় পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামান্তা খানও ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা দেন। প্রাইভেট না পড়ানো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া, ফেল করানোর ভয় দেখানো এবং হয়রানি করার ঘটনা ঘটছে। এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে এক শিক্ষক মারধর করেছেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। উপবৃত্তি বণ্টনেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।
প্রধান শিক্ষক সামান্তা খান জানান, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। তিনি সৈয়দ আব্দুল আওয়াল, আব্দুল ওহাব, রোমেনা পারভিন ও জাফিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, অর্থ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন। সামান্তা খানের দাবি, তিনি নিয়ম মেনে বিদ্যালয় পরিচালনার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাক্ষরকারী কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, তাদের জোর করে বা না পড়েই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক রোমেনা পারভিনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অপর অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল ওহাব জানান, তারা এখন আর প্রাইভেট পড়ান না।
ধামরাই উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পলী রানী সরকার জানান, প্রধান শিক্ষকের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৫:৪৭ ১১ বার পঠিত #অভিযোগে #উপবৃত্তি #তদন্ত #ধামরাই #প্রাথমিক বিদ্যালয় #শিক্ষক