সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল » সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬



সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

পিলখানা থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অবধি বিভিন্ন সময়ে দেশে ‘গণহত্যা, গুম ও খুনের’ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুই সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। ‘সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি’র অভিযোগ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেফতারের আবেদন করেছেন ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’ নামে দুটি সংগঠন। আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক বোরহান মাহমুদ এবং ফোরামের সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস রোববার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দুটি দাখিল করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ শপথ নিয়ে পরপর দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন আবদুল হামিদ। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ পূর্তির আগেই গত শুক্রবার তিনি দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, আমাদের কাছে যখন কোনো অভিযোগ আসে তখন তা গ্রহণ করে তদন্ত সংস্থায় পাঠাই। তদন্ত সংস্থা যদি মনে করে এটি তদন্ত করার মতো, তখন তারা একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রারভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। এই অভিযোগগুলো তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তামীম বলেন, অভিযোগ থাকলেই হয় না।

বোরহান মাহমুদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, জুডিশিয়াল কিলিং এবং আয়নাঘরসহ দেশে নারকীয় ঘটনাবলির সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। একটি গণহত্যার ঘটনার সময় ওখানে যে রাষ্ট্রের বা যে দলের যে সর্বোচ্চ ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত এর অপরাধটা বর্তায়। তৎকালীন যে রাষ্ট্রপ্রধানরা এই ফ্যাসিস্ট গভার্নমেন্টকে সাপোর্ট দিয়েছেন, সবধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন, যেহেতু তিন বাহিনী তার হাতে ছিল এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাগুলো তার হাতে ছিল, তিনি এই অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি। তারা কখনো এই অন্যায়ের দায় এড়াতে পারেন না।

অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের জন্য ট্রাইব্যুনালে পৃথক আবেদন করেছে ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’। সংগঠনটির সদস্য সচিব আয়াস বলেন, তারা চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দুটি অভিযোগ দিয়েছেন, যেখানে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রসিকিউশন ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা করছেন। আয়াস বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নিপীড়নের সময় সাহাবুদ্দিন কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি ছাত্র-জনতার ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করেননি এবং প্রকাশ্যে গুলি না চালানোর জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোনো নির্দেশও দেননি। শেখ হাসিনার ‘সহযোগী’ হিসাবে এসব হত্যা ও নির্যাতনের ‘নির্দেশদাতা’ হিসাবে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে তার ‘সংশ্লিষ্টতা’ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করে বিচার দাবি করেন।

এ সময় কথা বলেন আজাদ পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমানও। তিনি বলেন, তিন বাহিনীর প্রধান হিসাবে রাষ্ট্রপতির যুদ্ধ ঘোষণার মতো সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকলেও তারা কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত গুম, খুন ও আয়নাঘরের মতো অপরাধে তাদের মৌন সম্মতি ছিল। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রপতির কিছু করার সুযোগ ছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনুর রহমান বলেন, একটি সুযোগ তার অন্তত ছিল, তিনি পদত্যাগ করতে পারতেন। তিনি পদত্যাগ করেননি, তিনি ক্ষমতা ভোগ করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ৫:১০:৪৯   ৪ বার পঠিত