রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

জবি শিক্ষার্থী অথৈর আত্মহত্যা: অভিযোগপত্রে প্রেমিকের ‘মানসিক নিপীড়নের’ অভিযোগ

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » জবি শিক্ষার্থী অথৈর আত্মহত্যা: অভিযোগপত্রে প্রেমিকের ‘মানসিক নিপীড়নের’ অভিযোগ
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬



জবি শিক্ষার্থী অথৈর আত্মহত্যা: অভিযোগপত্রে প্রেমিকের ‘মানসিক নিপীড়নের’ অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মজুমদার অথৈয়ের ‘আত্মহত্যার’ জন্য তার প্রেমিক ইয়াছিনের ধারাবাহিক ‘মানসিক নিপীড়ন’কে দায়ী করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এদিকে, ইয়াছিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন তার পক্ষের আইনজীবী।

গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজারের নন্দলাল লেনের একটি বাসায় আত্মহত্যা করেন অথৈ। পরদিন তার বাবা প্রণব মজুমদার প্রেমিক ইয়াছিন মজুমদারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন।

জবি শিক্ষার্থী অথৈর আত্মহত্যা: অভিযোগপত্রে প্রেমিকের ‘মানসিক নিপীড়নের’ অভিযোগ

সেই সময় লালবাগ এলাকার ‘জমিদারি ভোজ’ রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইয়াছিন। মামলার দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান ইয়াছিন। তবে আদালতে নিয়মিত হাজির না থাকায় গত ২৬ এপ্রিল তার জামিন বাতিল করে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই আলমগীর হোসেন তদন্ত শেষে গত ১৯ মে ইয়াছিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৪ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সোহানুর রহমান জানিয়েছেন, মামলাটি বিচারপর্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় আদালত এটি বদলির আদেশ দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, “মামলার তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দিয়েছি। কী কারণে আত্মহত্যা করেছে, ভিকটিমের মনের কথা তো আমার পাওয়া সম্ভব না।”

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অথৈ ও ইয়াছিনের বাড়ি পাশাপাশি। তারা চট্টগ্রামের একটি স্কুলে পড়াশোনা করতেন। ইয়াছিন বিভিন্ন সময় অথৈকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও প্রথমদিকে ইতিবাচক সাড়া পাননি।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পর অথৈ ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে ভর্তি হন এবং সূত্রাপুর এলাকার একটি মেসে থাকতে শুরু করেন।

অথৈ ঢাকায় আসার পর ইয়াছিনও ঢাকায় এসে লালবাগ এলাকার ‘জমিদারি ভোজ’ রেস্তোরাঁয় চাকরি নেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, এরপরও তিনি আগের মতো অথৈকে ‘উত্যক্ত’ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। এরপর মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের যোগাযোগ চলতে থাকে। তবে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের পর থেকেই ইয়াছিন ‘অপমানজনক কথাবার্তা ও অপবাদ’ দিয়ে অথৈকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করতেন।

ঘটনার দিন ২৯ এপ্রিল ক্যাম্পাসে সংগীত উৎসবের অনুশীলন শেষে মেসে ফিরছিলেন অথৈ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মেসের গেটের সামনে আগে থেকে অপেক্ষমাণ ইয়াছিন তাকে সংগীত উৎসবে অংশ নিতে বারণ করেন এবং গালমন্দসহ অপমানজনক কথাবার্তা বলেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, ইয়াছিনের এমন আচরণ মেনে নিতে না পেরে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কোনো একসময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন অথৈ। ঘটনার আগে ও ঘটনার সময় মোবাইলে হওয়া কথোপকথন

বাংলাদেশ সময়: ৬:২১:৩৮   ৭ বার পঠিত