রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মিরপুরে যুবদল কর্মী খুন হামলার লক্ষ্য ছিলেন যুবদল নেতা, ঝিনাইদহ থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি: পুলিশের ধারণা

প্রথম পাতা » অপরাধ » মিরপুরে যুবদল কর্মী খুন হামলার লক্ষ্য ছিলেন যুবদল নেতা, ঝিনাইদহ থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি: পুলিশের ধারণা
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬



মিরপুরে যুবদল কর্মী খুন হামলার লক্ষ্য ছিলেন যুবদল নেতা, ঝিনাইদহ থেকে আনা হয় ভাড়াটে খুনি: পুলিশের ধারণা

রাজধানীর মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের মধ্যকার অন্তঃকোন্দলকে কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁদের ঝিনাইদহ থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল।

মিরপুরের ১৩ নম্বর এলাকায় শুক্রবার রাতে গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী পারভেজ (৪৫)। এ ঘটনায় আহত হন আরেক যুবদল কর্মী মনির হোসেন এবং সবজি বিক্রেতা সালাম সরদার।

কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় তাঁদের ওপর হামলা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন হাফিজুল ইসলাম।

নিহত ইউসুফ আলীর বড় ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে আজ শনিবার সকালে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর ভাই খুনিদের ‘টার্গেট’ ছিলেন না; তিনি হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে চলাফেরা করতেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কোন্দল, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হাফিজুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে চারজন ভাড়াটে খুনিকে চার দিন আগে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আনা হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, হামলার আগে খুনিরা যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবুর বাড়ি ও নিচতলার ব্যক্তিগত কার্যালয় রেকি করে। এরপর শুক্রবার রাতে তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হাফিজুলের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাফিজুল ও তাঁর অনুসারীরা তখন বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন অপরিচিতকে দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। পরিচয় জানতে চাইতেই এক যুবক কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি চালাতে শুরু করেন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইউসুফ মারা যান। এরপর হাফিজুল ও যুবদল কর্মী মনির হোসেন এগিয়ে এলে তাঁদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়। হাফিজুল অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও মনির গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেগুলোতে দেখা গেছে, হামলাকারী ছিলেন চারজন এবং তাঁরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

হাফিজুল ইসলাম বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, একটি জানাজা শেষে বাসার পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলাম। এক ছোট ভাই ফোনে জানায়, দোকানের পাশে দুজন সন্দেহজনক লোক ঘোরাফেরা করছে। ইউসুফ গিয়ে তাঁদের পরিচয় জানতে চেয়েছিল। তাঁরা রেগে কথা বলা শুরু করে। তখন ইউসুফ একজনকে জাপটে ধরতে গেলে সে কোমর থেকে পিস্তল বের করে বুকে গুলি করে।

হাফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি এগিয়ে গেলে আরেক যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ায় গুলি তাঁর শরীরে লাগেনি। পরে লোকজন ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে পিস্তলসহ আটক করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তি চঞ্চল মোল্যা (৩৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর ঝিনাইদহ থেকে আসার তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রটির ভাষ্য, চঞ্চলসহ চারজন চার দিন আগে ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে তাঁদের রাখা হয়। হাফিজুল ইসলামকে হত্যা করতেই তাঁদের ভাড়া করা হয়েছিল। তবে কারা তাঁদের ভাড়া করে ঢাকায় এনেছে, সে বিষয়ে চঞ্চল এখনো কিছু স্বীকার করেননি।

এ ঘটনায় কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার হালদার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করেছেন। দুই মামলায় চঞ্চলসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন জিহাদ মোল্লা (৩৪), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) ও হাসান (৩৫)।

চঞ্চলকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্যের কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সন্দেহের প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় যদি যুবদলের কোনো নেতার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ৬:০১:০০   ৬ বার পঠিত