![]()
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী সহকর্মী আইনজীবী শহিদুল আলম সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে আইনজীবী শহিদুল আলম রাহাত সাক্ষ্য দেন। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্না ভেঙে পড়েন।
মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী শহিদুল আলমের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।
তিনি বলেন, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ান আইনজীবী শহিদুল আলম। ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দিন আইনজীবীরা আদালত ভবনের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় পেছন থেকে সাইফুল তাকে ডাক দেন।
সাক্ষ্যের একপর্যায়ে শহিদুল আলম বলেন, সাইফুল হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে তাকে আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন: ‘ভাইয়া, আমাকে নিয়ে যান, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ শহিদুল আলম বলেন, এটিই ছিল সাইফুলের শেষ কথা।
সাক্ষ্যে শহিদুল আলম বলেন, সাইফুলের ডাক শুনে পেছনে ফিরে তিনি দেখেন, নীল রঙের গেঞ্জি পরা, মাথায় হেলমেটধারী এবং হাতে কিরিচ থাকা এক যুবকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি সামনে যাওয়ার আগেই ওই ব্যক্তিরা তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। পরে তিনি জানতে পারেন, আসামি রিপন দাসসহ অন্যরা সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার পর অন্য আসামিদের পক্ষে সাক্ষী শহিদুল আলম রাহাতকে জেরা করা হলেও মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তাকে জেরা করা হয়নি।
রায়হানুল ওয়াজেদের ভাষ্য, আসামি চিন্ময়ের পক্ষে তার আইনজীবী বলেন, তারা মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন। তারা জেরার জন্য সময়ের আবেদন করেছেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২০ অগাস্ট জেরার পরবর্তী তারিখ ঠিক করেছে।
সোমবার আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভিডিওকলে হাজির করা হয়। তার জামিন আবেদন করা হলেও নামঞ্জুর করে আদালত। আর সশরীরে শুনানিতে থাকা অন্য আসামিদের পরে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২৭জন কারাগারে রয়েছেন। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ১২ আসামি।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। পরে বাদীর আপত্তির পর একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আরও একজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা করা হয়।
আদালত সূত্র আরও জানায়, মামলার আসামিদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:২১:৫১ ১১ বার পঠিত