![]()
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থেকে ২০১৬ সালের ১৮ মে মো. রবিন নামের এক যুবককে ৫১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা হয়ন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কামরাঙ্গীরচর থানার তৎকালীন এসআই হিমায়েত হোসেন। এক মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে ১৮ জুন রবিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। তবে গত ১০ বছরে মাদক ও অন্যান্য অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে ছয়বার গ্রেপ্তার হলেও পাল্টাননি রবিন।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। অভিযোগপত্রে ১০ জন সাক্ষী করা হলেও কেবল বাদী একা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ বাকি ৯ জনই সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাননি। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত ৬ মে প্রমাণের অভাবে রবিনকে খালাস দেন ঢাকার একটি আদালত।
![]()
রায় ঘোষণার পর রবিন সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছে গণমাধ্যম। রবিন পেশাদার মাদক বিক্রেতা। কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করেন। তিনি নিজেও মাদক সেবন করেন। একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও ওই পথ থেকে ফেরেননি তিনি। ২০১৬ সালের ১৮ মে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন পর রবিন জামিনে বের হয়ে ফের একই পথে হাঁটেন। আদালতে যখন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাঁর বিচার চলমান তখনও তিনি মাদক কেনাবেচা করেন এবং ওই মামলায় খালাস হওয়ার আগে মাদকসহ আরও তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১০ মে ও ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই মারামারিসহ বিভিন্ন মামলায় আরও দুবার গ্রেপ্তারের পর কারাভোগ করতে হয় তাঁকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিনের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার আটিপাড়া এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন তিনি কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বাস করেন। তবে যতবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, ততবারই জামিনে বেরিয়ে বাসা বদল করেছেন। এক মহল্লা থেকে আরেক মহল্লায় বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক কারবার করেন। ২০১৬ সালে যখন ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন, তখন তার বাসা ছিল কামরাঙ্গীরচরেরর চাঁন মসজিদ রোডে। জামিনে বেরিয়ে সেই বাসা ছেড়ে একই থানার খলিফাঘাট এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে একাধিকবার বাসা বদল করেন তিনি।
কামরাঙ্গীরচর থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আবার পুলিশের গ্রেপ্তার হন রবিন। এদিন রাত সাড়ে ১১টায় কামরাঙ্গীরচর মুনসুরবাগ এলাকায় রবিন এবং তাঁর সহযোগী মাকসুদুর রহমান ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি করে। এ সময় রবিনের কাছ থেকে একশ গ্রাম গাঁজা ও মাকসুদুরের কাছে ১৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রবিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয় কামরাঙ্গীরচর থানায়। ওই মামলায় কারাগারে যান তারা। জামিনে মুক্ত হয়ে রবিন আবার মাদক কেনাবেচা শুরু করেন।
দেড় বছরের ব্যবধানে ফের মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয় তাঁকে। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল কামরাঙ্গীরচরের রনি মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবারও বেশিদিন কারাভোগ করতে হয়নি। জামিনে বেরিয়ে আসেন। একই পথে পা বাড়ান তিনি। ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারিতে আবার গ্রেপ্তার হন। এদিন কামরাঙ্গীরচরের কুড়ারঘাট এলাকা থেকে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাকে। এই মামলায় কারাগারে যান তিনি।কামরাঙ্গীরচর থানার দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি মাদক মামলা তদন্ত শেষে রবিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
গত ৬ মে যে মামলায় রবিন খালাস পেয়েছেন, সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে গণমাধ্যম। তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেও কেন সাক্ষ্য দেননি তা জানতে চাওয়া হয় এসআই হিমায়েত হোসেনের কাছে। তিনি বলেন, কামরাঙ্গীরচর থানা থেকে তিনি কদমতলী থানায় বদলি হন, এরপর সিলেটে। বর্তমানে শরীয়তপুর জেলায় কর্মরত। তিনি বলেন, অনেক মামলায় তো সাক্ষ্য দিয়েছি। রবিনের বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষ্য দিয়েছি কিনা মনে নেই।
তাঁকে জানানো হয়, আদালতের নথি অনুযায়ী এই মামলায় সাক্ষ্য দেননি। জবাবে বলেন, নথি ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।
কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি গোলাম ফারুক বলেন, রবিন চিহ্নিত মাদক কারবারি। একাধিকবার মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছে। প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই কাজ করে রবিন।
বাংলাদেশ সময়: ২:১২:১৪ ৪ বার পঠিত