![]()
মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য নির্মিত নবনির্মিত বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি জাফর আহমেদ। সোমবার ২২ জুন সকাল ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর কোর্ট চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এ বিশ্রামাগারের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিচারপতি জাফর আহমেদ বলেন, বিচারপ্রার্থীদের সেবার মান উন্নয়ন এবং আদালতে আগত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে ‘ন্যায়কুঞ্জ’ নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আদালতে ন্যায়বিচারের আশায় আসা বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, “আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শরিক হতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। গত বছরও আমার চুয়াডাঙ্গায় আসার সুযোগ হয়েছিল। এবার আবারও এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আমি সাধারণত যেখানেই যাই, সেখানকার বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। কিন্তু এবার সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ইনশাআল্লাহ আগামীতে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ হবে।”
বিচারপতি জাফর আহমেদ আরও বলেন, “যারা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে আসেন, তাদের মধ্যে অনেক বয়স্ক মানুষ, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তি থাকেন। তাদের বসার ও বিশ্রামের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই ন্যায়কুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবে এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জনগণ, আইনজীবী সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা দেখা দিলে জেলা ও দায়রা জজকে অবহিত করতে হবে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলী এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিকুজ্জামান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং চুয়াডাঙ্গা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবুসহ জেলা আদালতের বিচারক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নবনির্মিত ন্যায়কুঞ্জ পরিদর্শন করেন এবং এর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিত হন। আদালতে আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য এমন একটি বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগকে উপস্থিত সবাই সময়োপযোগী ও জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৪:২৬ ২৩ বার পঠিত