![]()
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত অঙ্গনে প্রবেশ পথে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীকে হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। দুই মামলায় সর্বমোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) ভুক্তভোগী হিসেবে লিয়াকত আলী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন।
এ ঘটনায় আটক জিয়াউল হক জিয়াকে গ্রেপ্তারে দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের দক্ষিণ দিকে সিঁড়ির সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অন্তত সাত রাউন্ড গুলির শব্দে মুহূর্তেই আদালত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর প্রকাশ পায়, ২০১৪ সালের একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে আদালতে যান। হাজিরা শেষে আদালত ভবন থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় দুইটি মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুঁড়ে।
এ ঘটনায় লিয়াকত আলীর চাচাতো ভাই মইন উদ্দিন (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রনিসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। গুলিবিদ্ধ মইনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার সময় লিয়াকত আলীর সঙ্গে থাকা লোকজন ধাওয়া দিয়ে হামলাকারীদের একজনকে আটক করে বলে প্রচার করা হয়। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আটক জিয়াউল হক জিয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি ও দুইটি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে মামলা করা হয়। হত্যাচেষ্টার ঘটনায় লিয়াকত আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করে পুলিশ। দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। জিয়াউলকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাণ্ড অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হামলার পেছনের কারণ এবং জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৯:৪৪ ১৩ বার পঠিত