বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় গভীর রাতে ট্রাস্টিকে তুলে নিল ডিবি, ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় গভীর রাতে ট্রাস্টিকে তুলে নিল ডিবি, ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার
বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬



গভীর রাতে ট্রাস্টিকে তুলে নিল ডিবি, ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার

খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকারকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় নগরীর হরিণটানা থানার রাজবাঁধের বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। পরদিন রোববার মহিলা দলনেত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা লিন্ডার দোকান ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি দখল হওয়ার পর পবিত্র সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত পবিত্রর পক্ষে রায় দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর মামলা তুলে নিতে তাঁকে চাপও দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। যে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেই বাদী পবিত্র সরকারকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। শুরুতে এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেক আত্মগোপনে চলে যান। তখন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন বিএনপি-সমর্থিত সিরাজুল হক চৌধুরী। খুলনা মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার চাপে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান নামে দুজনকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য করেন তিনি।

২০২৫ সালের ২১ মে সিরাজুল হক চৌধুরীকে সরিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন মিজানুর রহমান। হাফিজুর রহমানকে করা হয় সদস্য সচিব। এরপর সিরাজুল হক চৌধুরী, পবিত্র কুমার সরকারসহ প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন মিজান। ট্রাস্টি বোর্ডের তিনজনের বিরুদ্ধে বিএনপির সমাবেশে হামলার মামলাও দেওয়া হয়।ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয় নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন মিজান।

এ পরিস্থিতিতে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন পবিত্র কুমার সরকার। গত ১৩ জানুয়ারি খুলনার সদর সিনিয়র সহকারী জজ মো. রাশিদুল আলম মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানকে ট্রাস্টি হিসেবে কার্যক্রম চালাতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সেই থেকে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন মিজানুর রহমান। ১৬ এপ্রিল আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

পবিত্র সরকারের স্ত্রী বিউটি মণ্ডল বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় বাড়িতে ঢুকে পবিত্রকে ডিবির লোকজন তুলে নিয়ে যায়। পরদিন জানতে পারি, ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ডিবি অফিসে আমাকে বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা তুলে নিলে আর কোনো ঝামেলা হবে না। ওই মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।’২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দায়ের করা যে ভাঙচুর মামলায় পবিত্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তার বাদী মহিলা দলনেত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা লিন্ডা। মামলার এজাহারভুক্ত সাত আসামির সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এর মধ্যে পবিত্র সরকারের নাম নেই।

জানতে চাইলে ফাতেমা-তুজ-জোহরা লিন্ডা বলেন, এই নামে আমি কাউকে চিনি না। তাঁকে কেন এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, ডিবিই বলতে পারবে।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম বলেন, ‘পবিত্র আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তবে স্ত্রী বিউটি মণ্ডল বলেন, বিয়ের ১৫ বছরে পবিত্রকে কখনও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখিনি। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন।নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সবাই বৈধ ট্রাস্টি হিসেবে আমাদের পক্ষে। অথচ আমরা কেউ সেখানে যেতে পারছি না। রাজনৈতিক প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি দখল করা হয়েছে। এখন ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হচ্ছে, কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১০:২২:০১   ১৮ বার পঠিত