তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬



তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে সোমবার সকালে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পরই সোমবার ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন। এতে বিচারক সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ করার নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে ৩ ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচ করা হয়নি। তাই  আদালত বলেছে সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ করতে। ওই ৩ জন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলেছে আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও সোমবার আদালতে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়ার হোসেন আরও বলেন, দেশের  সব হত্যার বিচার হইলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না।

বাংলাদেশ সময়: ১০:১১:৫৩   ৭৬ বার পঠিত  




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


সচিব কমিটির সুপারিশ সরকারি চাকরিজীবীর বেতন ১০০% পর্যন্ত বাড়তে পারে
একযোগে ৩৮ বিচারককে বদলি
ইকরার মৃত্যু: জামিন মেলেনি অভিনেতা জাহের আলভীর
হাত হারানো সেই নাহিদ পেল ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ
সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩
রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি, শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনের জয়
বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গড়লো স্পেন
ইরান থেকে ফিরে যমজ ভাইয়ের সিসা কারবার
পাঁচ জেলায় ছয়জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা
হাম: ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ