বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ এমপির দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রথম পাতা » জেলা জজ কোর্ট » ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ এমপির দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬



ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ এমপির দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাট দখল, মারধর, ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে করা মামলায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মারিনা এরশাদ ও আশিকুর রহমান আশিক।

মামলার অপর আসামিরা হলেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী (৫০) ও শাকির কাদের চৌধুরী (৪২); মারিনা এরশাদ (৪৫), কেশব চন্দ্র নাথ (৫০), হারুন অর রশিদ (৪৮), ফেরদৌস মুন্সী (৪০), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), সিরাজুল ইসলাম (৫০), মো. আবুল কাশেম (৪৫), আশিকুর রহমান আশিক (২৬), সালফান রেমা (২২), রাকিব হোসেন (৩৫), শাহাবুদ্দিন (৩৫) ও সালাউদ্দিন আব্বাসি (৫৬)।

মামলার বাদী ফারজানা আন্না ইসলাম ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগে গুলশান থানায় এ মামলা করেন। এতে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, বুধবার মামলার দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজির হন। তবে সংসদ অধিবেশনের কারণে সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী আদালতে হাজির হতে পারেননি। এছাড়া অপর ৪ আসামি চট্টগ্রামে থাকায় তারা আদালতে আসেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ২ ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রথম ছয় আসামি দীর্ঘদিন ধরে বাদীর ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা দলবদ্ধ হয়ে সেখানে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তারা চেয়ার, টেবিল, ফ্যাক্স মেশিন, প্রিন্টার, রাউটার ও অফিসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার মালামাল মিনি পিকআপে তুলে নিয়ে যান। এ ছাড়া আনুমানিক দুই লাখ টাকার অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন।

এরপর ৪ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে আসামিরা লোহার রড ও পাইপ, কাঠের লাঠি, হাতুড়ি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদী ও তার দুই ছেলেকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সময় তারা বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। পাশাপাশি বাদীর দুই ছেলেকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিক তাদের মক্কেল। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাদীপক্ষ আমাদের ওপর হামলা করেন। আমরা এর জন্য তাদের বিরুদ্ধে ৮ ডিসেম্বর মামলা করি। ওই মামলা থেকে বাঁচতে তারা আমাদের বিরুদ্ধে আরেকটি ভুয়া মামলা দিয়েছেন। আমাদের করা মামলায় আন্না ইসলাম ও তার দুই ছেলে জেলেও ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২:২৩:১৪   ১৫ বার পঠিত