বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঠিত কতটা ক্ষতি হলো?

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঠিত কতটা ক্ষতি হলো?
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬



ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঠিত কতটা ক্ষতি হলো?

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ উল্লেখ করেছে তা আরও কয়েক গুন বেশি বলে দাবি করেছে তেহরান।
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি’র এক বিশ্লেষণ বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকবার হামলা চালানো হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় উচ্চমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া একটি এফ-৩৫ লাইটনিং২ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে কুয়েতে তিনটি এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ইগল বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও জানা গেছে।, যা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ফল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবে, ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছে।

নতুন হামলা ও বিস্তৃত ক্ষতি: ইরান তাদের হামলার পরিধি আরও বাড়িয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করেছে। পাশাপাশি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটে হামলা চালিয়েছে। ২৭ মার্চে প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। একই হামলায় একাধিক সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি সবচেয়ে বড়, যেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। পুরো অঞ্চলে মোট মার্কিন সেনার সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে, যা সাম্প্রতিক মোতায়েনের ফলে আরও বেড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস ট্রিপলি।

যেসব ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে: মার্চের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাহরাইনের নৌ সহায়তা কেন্দ্র, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আল-আসাদ ঘাঁটি, বাগদাদ অঞ্চলের ভিক্টরি বেস কমপ্লেক্স, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটি, কুয়েতের একাধিক ঘাঁটি, কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ঘাঁটি, জেবেল আলি বন্দর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটি। এর কিছু হামলার তথ্য যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করলেও, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য এসেছে ইরানি সূত্র থেকে।

ইরানের লক্ষ্য কী: বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়া। একই সঙ্গে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দিকেও জোর দিচ্ছে ইরান, যাতে মার্কিন বাহিনীর নজরদারি ও প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে, এই সংঘাতে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো যে উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে রয়েছে তা স্পষ্ট।

বাংলাদেশ সময়: ০:১৭:১৯   ২১ বার পঠিত