শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রুমমেটকে হত্যার পর ৭ টুকরা, শাহিনের দায় স্বীকার

প্রথম পাতা » অপরাধ » রুমমেটকে হত্যার পর ৭ টুকরা, শাহিনের দায় স্বীকার
শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬



রুমমেটকে হত্যার পর ৭ টুকরা, শাহিনের দায় স্বীকার

রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরার অভিযোগে করা মামলার আসামি শাহিন আলম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন রিমান্ড শেষে আসামি শাহিনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।

এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। গ্রেপ্তারের পর গত ২ মার্চ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম ওবায়দুল্লাহ বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে ঢাকার মতিঝিলের কমলাপুর কবি জসীম উদ্দিন রোডস্থ একটি চিলেকোঠায় দুই রুমের একটি মেসে শাহীন আলমসহ ভাড়া থাকত।

শাহিন আলমের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে মনোমালিন্য ছিল। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনের সঙ্গে তার ঝগড়া হতো। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯ টা ৪৩ মিনিটের দিকে ছোট ভাই জলিলের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পল্টন থানাধীন আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন পা, বায়তুল মোকারম মসজিদের পূর্ব গেটের পাশে বিচ্ছিন্ন দুটি হাত এবং শাহজাহানপুর থানাধীন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে আরেকটি বিচ্ছিন্ন পা পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে পুলিশ বিচ্ছিন্ন হাত দুইটি উদ্ধার করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহর পরিচয় শনাক্ত করে। পুলিশ পরবর্তীতে ওবায়দুল্লাহর ভাড়া মেসের ঠিকানা পেয়ে সেখানে যায়। সেখানে গিয়ে একটি রক্তমাখা ধারালো চাপাতি ও সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনায় একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করে। একপর্যায়ে পুলিশ শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শাহিন ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়েছে মর্মে স্বীকার করে।

পুলিশ যাত্রাবাড়ি থানাধীন মাতুয়াইল বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র থেকে ওবায়দুল্লাহ বিচ্ছিন্ন মাথা, সাভারের আমিনবাজার সালেহপুর ব্রিজের নিচে তুরাগ নদী থেকে শরীরের মূল বডির একাংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিয়া মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২:৩২:৫৫   ৭ বার পঠিত