বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে স্কুলছাত্র উদ্ধার অপহরণে জড়িত অভিযোগে ৪ তরুণ গ্রেপ্তার: পুলিশ

প্রথম পাতা » অপরাধ » প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে স্কুলছাত্র উদ্ধার অপহরণে জড়িত অভিযোগে ৪ তরুণ গ্রেপ্তার: পুলিশ
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



অপহরণে জড়িত অভিযোগে ৪ তরুণ গ্রেপ্তার: পুলিশ

রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে রমনা থানা পুলিশ। বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চারজন হলেন– তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম, ইফফাত ইয়ামিন লিখন, হাসান আল বান্না ওরফে হাসান ও মুস্তাকিমুর রহমান ওরফে কুঞ্জ।

এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলে নবম শ্রেণির ছাত্র আফ্ফান সাইফকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তখন ওই কিশোরের বাবা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডির ল্যাব সহকারী খন্দকার শামীম হাসান সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে গিয়ে হাজির হন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক ঘণ্টার মধ্যে সাইফকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভুক্তভোগী সাইফ মঙ্গলবার বিকেলে শান্তিনগর মোড়ে গেলে কৌশলে তাকে বাসায় দেখা করার কথা বলে একজন। এরপর তাকে চামেলীবাগের নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবনের দোতলায় নিয়ে যায়। সেখানে গ্রেপ্তারকৃতরা ওই কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা চায়। পরে তার বাবাকেও টাকা চেয়ে ফোন করে এবং মুক্তিপণের টাকা না দিলে ছেলের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

সাইফের বাবা কোনো উপায় না পেয়ে সচিবালয়ে চাকরির সুবাদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিক অভিযানে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা এর আগে আরও ছয়টি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা, ব্লাকমেইলিং ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো।

ভুক্তভোগীর বাবা শামীম হাসান বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছেলেকে উদ্ধারের কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমার চাচা বললেন, স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে যাও। তখন আমি তাকে বলি, সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী স্যার আছেন। যদি স্যার বের হন, তাহলে আমি তার কাছেই যাব। এই সাহস নিয়েই আমি গেছি। একটু পরই দেখি, স্যার নামছেন। আমি কাঁদতে কাঁদতে স্যারকে ঘটনা বলেই অচেতন হয়ে পড়ি। পরে স্যার বলেন, আচ্ছা, কান্নাকাটি করিও না, আমি দেখছি।’

বাংলাদেশ সময়: ৬:২৯:১০   ৬ বার পঠিত