রাজধানীর হাজারীবাগে সোহেল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি হত্যার দায়ে তার স্ত্রী শিল্পী বেগম ও শিল্পীর ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফাহিম পাঠানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ( ১৮ ফেব্রুয়ারি ) ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড , অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান এতথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, স্ত্রী শিল্পী বেগম পলাতক আছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ফাহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য , ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের মধ্য বসিলা এলাকা থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে , শিল্পী বেগম , তার ছেলে সিজান মাহমুদ এবং সিজানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফাহিম পাঠান এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ২০২২ সালের ২৪ জুলাই হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক হুমায়ন কবির শিল্পী বেগম ও ফাহিম পাঠানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সিজান অপ্রাপ্তবয়স্ক ( ১৭ ) হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পৃথক দোষীপত্র দেওয়া হয়। তার বিচার শিশু আদালতে চলছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় , শিল্পীর তৃতীয় স্বামী ছিলেন সোহেল। তারা হাজারীবাগে বসবাস করতেন। সিজানও মায়ের সঙ্গে থাকতো এবং সোহেলকে ‘ মামা ’ বলে ডাকতো। তবে সোহেলের সঙ্গে সিজানের সম্পর্ক ভালো ছিল না ; তাকে ও তার মাকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সিজান বাগেরহাটে তার বাবার কাছে চলে যায়।
সোহেল সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে সিজানের বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু চাকরি না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সিজান ঢাকায় আসে। ১০ সেপ্টেম্বর টাকার বিষয় নিয়ে শিল্পী ও সোহেলের মধ্যে ঝগড়া হয় , সেদিন সোহেল শিল্পীকে মারধর করেন। বিষয়টি জানার পর সিজান ও ফাহিম সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৩ সেপ্টেম্বর শিল্পী শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ান। সন্ধ্যায় সিজান ও ফাহিম বাসায় এসে শিল্পীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তিনি মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় বোনের বাসায় যান। পরে সিজান ও ফাহিম সোহেলের হাত - পা ও মুখ বেঁধে বালিশ চাপা দিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল শিল্পী বেগম ও ফাহিম পাঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রায় প্রদানের পূর্বে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১:১১:০৭ ২৭ বার পঠিত