
কড়া নিরাপত্তা আর প্রযুক্তির নিশ্ছিদ্র নজরদারিতে বৃহস্পতিবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার এই আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে নিয়ে আসা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়। প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দুই উপজেলার ৩৩টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র। এর মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৩ লাখ ৪৫ হাজার ভোটারের রায় নিশ্চিতে প্রশাসন যখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে, তখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াইকে ঘিরে পুরো জনপদে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আত্রাইয়ের ৮টি ইউনিয়নে ৬০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ, যার মধ্যে ১২টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। মোট বুথ সংখ্যা ৩২৩টি। এখানে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৩ জন; যার মধ্যে পুরুষ ৮৯ হাজার ৪৪১ এবং নারী ৮৭ হাজার ৫৮০ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।
রাণীনগরের ৮টি ইউনিয়নে মোট ৫৫টি ভোটকেন্দ্রে ৩১৬টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ, যার মধ্যে ৪টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। এই উপজেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৮৪ হাজার ৯০৯ জন এবং নারী ৮৩ হাজার ৪৮১ জন। এখানে ৩ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে পুলিশ, র্যা ব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা।
আত্রাই থানার ওসি আব্দুল করিম ও রাণীনগর থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানান, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম ও রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি শেষ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। আশা করি সবার সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন–বিএনপির মনোনীত শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলনের মো. রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) ও বাংলাদেশ রিপালিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি)।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩১:০৮ ৫২ বার পঠিত