সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানে কোয়েটাসহ ১২ শহরে হামলা, দুই দিনে ১৪৫ হামলাকারী নিহত

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » পাকিস্তানে কোয়েটাসহ ১২ শহরে হামলা, দুই দিনে ১৪৫ হামলাকারী নিহত
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



পাকিস্তানে কোয়েটাসহ ১২ শহরে হামলা, দুই দিনে ১৪৫ হামলাকারী নিহত

সন্ত্রাস দমন অভিযান জোরালো করেছে পাকিস্তান সরকার। দুই দিনে মোট বারটি শহরে বোমা ও বন্দুক হামলার ঘটনায় এই অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে সেনা কর্মকর্তা ও সন্ত্রাসী মিলিয়ে একশতের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।রোববার বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একাধিক বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ৩১ জন বেসারিক নাগরিক ও ১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।তার দাবি, হামলার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলার দায় স্বীকার করে এবং বহু সেনা নিহত হওয়ার দাবি জানায়।এই সহিংসতা বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দরিদ্র এই প্রদেশটিতে কয়েক দশক ধরেই জাতিগত বিদ্রোহ দমনে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান সরকার।হামলার পর পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত বিএলএকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে নয়াদিল্লি বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ মোট ১২টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। দিনভর কোয়েটার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন ও আশপাশের সড়কগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ রাখা হয় এবং আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার পর সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।বিএলএর অভিযোগ, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বেলুচিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদ শোষণ করছে, অথচ স্থানীয় জনগণ এর সুফল থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ তুললেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে আসছে।উল্লেখ্য, বেলুচিস্তান পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত। ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে এর সীমান্ত অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আরব সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলও এই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ এখানে বসবাস করলেও প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদের দিক থেকে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ।বেলুচ জনগোষ্ঠীর নামানুসারেই প্রদেশটির নামকরণ। ১৯৪৮ সালে বৃটিশ শাসন থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকেই বেলুচিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:০১:৩২   ৫৩ বার পঠিত