![]()
প্রেমের সম্পর্কের পর সামাজিক বৈঠকে বিয়ে হয় শ্যালিকার। আর এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি বড় ভগিনীপতি। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন শাশুড়িও। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শ্যালিকার স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।
এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কিশোর রাজু মিঞা (১৯) হত্যার তদন্তে। পুলিশ এ ঘটনায় মূলহোতা ফিরোজ (৩৫) এবং ফাতেমা (৪২) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন পাঁচথুবি এলাকা থেকে ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাতেমা বেগমকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। ফাতেমা বেগম সম্পর্কে ফিরোজের শাশুড়ি।
পুলিশ জানায়, গত ২১ জানুয়ারি রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিঞা তার মালিকানাধীন ভাঙারির দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ২২ জানুয়ারি ফটিকছড়ি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন পেয়ারুল ইসলামের সেগুন বাগানের পশ্চিম পাশে খনখাইয়া খালের ঢাল থেকে রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রাউজান এলাকার বাসিন্দা মো. ফিরোজ (৩৪) ঢাকায় চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ধর্মপুরে বাবার বাড়িতে থাকার সুবাদে ফিরোজ (৩৪) শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। ফিরোজ তার শ্বশুরবাড়িতে থাকার সুবাদে তার শ্যালিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এদিকে ১ বছর আগে ফিরোজের শ্যালিকা প্রতিবেশী রাজু মিঞার (১৯) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শুরু থেকেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক ফিরোজ কোনোক্রমেই মেনে নিতে পারেননি। পরবর্তীতে শ্যালিকা ও রাজু মিঞা বাড়ি হতে পালিয়ে গিয়ে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেন। সেই বিয়ে ফিরোজ মিয়া এবং তার শাশুড়ি ফাতেমা বেগম বিরোধিতা করলেও স্থানীয় বৈঠকের মাধ্যমে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়; যা ফিরোজ ও তার শাশুড়ির মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং তারা উভয়ে রাজুকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি রাত ৯টায় ফিরোজ কৌশলে রাজু মিঞাকে ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পেয়ারুল ইসলামের সেগুন বাগানের পশ্চিম পার্শ্বে খনখাইয়া খালের পাড়ে আসার জন্য বলেন। রাজু কথামতো ওই স্থানে যান। তিনি খালের পাড়ে পৌঁছামাত্র তাকে ছুরিকাঘাত করেন ফিরোজ। এতে মারা যান রাজু। পরে লাশ খালের ঢালে বালিচাপা দেন এবং ছুরিটি সামান্য দূরে খালের পানিতে ফেলে দেন।
ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. সেলিম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার কুমিল্লা কোতোয়ালি থানাধীন পাঁচথুবি এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মো. ফিরোজ আহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ফাতেমা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একইসঙ্গে খনখাইয়া খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং সেগুনবাগান থেকে থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফিরোজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২:৪০:২৩ ৫১ বার পঠিত